ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নভেম্বর মাসের জন্য বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন দর রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
এলপিজির দামে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবরে তা ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়। এবার আরও ২২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হলো ২ হাজার ৬০ টাকা।
অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের তুলনায় মাত্র দুই মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম বেড়েছে মোট ৪৭৫ টাকা।
বিইআরসি জানিয়েছে,আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিকারক,ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ও বিভিন্ন চার্জ পুনর্নির্ধারণের কারণে এবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নভেম্বরের জন্য সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্যও বেড়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী প্রোপেনের দাম প্রতি টন ৭২০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৭৮০ ডলার। ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশ্রণ বিবেচনায় গড় সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস দাঁড়িয়েছে ৭৫৯ ডলার। এর সঙ্গে আমদানি-সংক্রান্ত খরচ, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এলপিজি ব্যবসার বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জও বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানিকারক বা অপারেটরের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। ডিলারদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসির এই কমিশন পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে গত ২৯ অক্টোবর গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগসহ সরবরাহব্যবস্থা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নতুন করে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-বিইআরসি নির্ধারিত দামে আদৌ ভোক্তারা এলপিজি পাবেন কি না।
গত অক্টোবরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটি নিয়েও ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি।
নতুন সিদ্ধান্তে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ৭ টাকা ৩৩ পয়সা।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে অটোগ্যাসের দাম ছিল প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা। ফলে সেপ্টেম্বরের তুলনায় নভেম্বরের নির্ধারিত দাম দাঁড়াল ১৮ টাকা ৮৬ পয়সা বেশি।
রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত এলপিজির দাম বাড়ায় সরাসরি চাপ পড়বে গৃহস্থালি বাজেটে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ব্যয়েও পড়তে পারে। আর বাজারে যদি বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি অব্যাহত থাকে, তাহলে ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় শুধু মাসভিত্তিক মূল্য ঘোষণা নয়, নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না-তা কার্যকরভাবে তদারকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এক নজরে নতুন দাম
-১২ কেজি এলপিজি: ২,০৬০ টাকা
- আগের দাম:১,৮৩৭ টাকা
- বৃদ্ধি: ২২৩ টাকা
- অটোগ্যাস:প্রতি লিটার ৯১.৯৫ টাকা
- নতুন দর কার্যকর:২ নভেম্বর রাত ৮টা থেকে
এলপিজির দাম, ১২ কেজি এলপিজি,অটোগ্যাসের দাম