মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

টোকিওতে আজ তারেক-তাকাইচি শীর্ষ বৈঠক,বাণিজ্য-বিনিয়োগে নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-২৭ ০০:০৯:৪০
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নেওয়ার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার টোকিওতে শীর্ষ বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সকাল ১১টা ৩০ থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ বিবৃতি দেবেন এবং পরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। 
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বিভিন্ন খাতে জাপানের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হবে।
তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা **ইপিএ** কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আগ্রহী। সফরের আগে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছিলেন, জাপানের সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
তারেক রহমানের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে। জাপানের সংবাদমাধ্যম নিকেইয়ের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে জ্বালানি,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,ডিজিটাল রূপান্তর, কৃষি এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। 
এর আগে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি ‘টেকনোলজিক্যাল ভিলেজ অ্যান্ড ইনোভেশন সিটি’ প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। একই বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তার বিষয়টিও উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা অভ্যর্থনা জানান।
সফরকালে জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাও পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান। দুই দেশের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
এ ছাড়া প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তার দায়িত্ব গ্রহণের পর তৃতীয় রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন এবং জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করেন। 

তারেক-তাকাইচি বৈঠক, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, জাপানি বিনিয়োগ


এ জাতীয় আরো খবর