সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • সকালের আলো ডেস্ক
  • ২০২৬-১১-০১ ২৩:৩২:১১

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে এবং মজুরি বোর্ডকে শ্রমিকদের কল্যাণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বোর্ড গঠনের সময় থাকলেও সরকার মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর রোববার সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের পাশাপাশি নিরপেক্ষ সদস্যও রয়েছেন।
মজুরি বোর্ডের কাজ হবে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। তাই সহিংস আন্দোলনের প্রয়োজন নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের গাড়িতে আগুন, যানবাহন ভাঙচুর, বিভিন্ন স্থানে হামলা এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সহিংসতা, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ ও উসকানির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের হাতে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে সীমান্তের ওপার থেকে কিছু ব্যক্তি নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তার দাবি, এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক উৎপাদনে ফেরানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো কারখানা বন্ধ থাকলে সেটি যেন সাময়িক হয়। মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে।
রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

পোশাক শ্রমিকের মজুরি, মজুরি বোর্ড, তৈরি পোশাকশিল্প


এ জাতীয় আরো খবর