সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তায় জাইকার বাজেট সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-২৬ ১৯:৩৭:২৬
ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গত বছরের মতো এবারও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকার কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে টোকিওর হোটেল ইম্পেরিয়ালে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের জানান।
উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাইকা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন,আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং দেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 
বড় প্রকল্প দ্রুত শেষ করার তাগিদ
বৈঠকে জাপানের সহায়তায় বাংলাদেশে চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দ্রুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কারিগরি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়কে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। 
দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিতে নতুন উদ্যোগ
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতাকে নতুন কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্প্রসারণের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলা।
এ ছাড়া বাংলাদেশে একটি ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী’ প্রতিষ্ঠায় জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কৃষির আধুনিকায়ন,কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও জাপানি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এসব খাতকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে সরকার। 
জ্বালানি নিরাপত্তায় বাজেট সহায়তা
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো এবারও জাইকার কাছে বাজেট সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহজ শর্তের ঋণ এবং কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। জ্বালানি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখা হলে দেশের জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় তা সহায়ক হবে বলে আশা করছে সরকার।
জবাবে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে উন্নয়ন সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে জাপানের ইতিবাচক অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে।
কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন মাত্রার প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত নতুন উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের পথ আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় জাপান দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চলমান বড় প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি, দক্ষতা ও উৎপাদনমুখী খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু অবকাঠামো ও অর্থায়নকেন্দ্রিক না রেখে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বৈঠকে আলোচিত প্রস্তাবগুলো সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর,পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির,বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান,অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। 

তারেক রহমান, জাইকা, জাপান-বাংলাদেশ সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, 


এ জাতীয় আরো খবর