তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে আমি জানালার ধারে বসে থাকি,
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত;
কাঁচের ওপারে একটা একলা তারা জেগে থাকে,
আমি তাকে বলি, "তুমিও কি কারও পথ চেয়ে আছো?"
সে কিছু বলে না, শুধুই কাঁপে, আমারই মতো।
তোমার দেওয়া সেই নীল শাড়িটা এখনো ভাঁজ করে রাখা,
আলমারি খুললে তোমার গায়ের গন্ধ হঠাৎ জেগে ওঠে।
আমি আঁচলে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে থাকি অনেকক্ষণ,
তুমি যেন পেছন থেকে এসে বলবে, "ওগো, শুনছো?"
কেউ আসে না, শুধু আয়নায় আমার চোখ ভিজে ওঠে।
বাইরে বৃষ্টি নামে, তুমি তো জানো বৃষ্টি আমার খুবই প্রিয়,
তুমিই তো শিখিয়েছিলে ভিজতে, হাত ধরে ছাদে নিয়ে যেতে।
আজ আমি একা ভিজি, কেউ বলে না "ঠান্ডা লাগবে!"
বৃষ্টির ফোঁটা আর চোখের জল মিলেমিশে একাকার,
কোনটা আকাশের, কোনটা আমার, আজ আর বুজতেই পারি না।
লোকে বলে, সময় সব ক্ষত সারিয়ে দেয়,
আমি হেসে বলি, "হ্যাঁ, কিন্তু, ধীরে ধীরে।"
কেউ জানে না, রাত গভীর হলে আমি বালিশে মুখ গুঁজে
তোমার নামটা এতো আস্তে উচ্চারণ করি, যেন ঘুম না ভাঙে
অভিমানের, অপেক্ষার, না-ফেরা সেই পুরোনো সুরের।
তুমি কি জানো, প্রতি সন্ধ্যায় আমি দুটো কাপে চা বানাই?
একটা নিজের, একটা তোমার, ভুল করে, অভ্যাসে, ভালোবাসায়!
তোমারটা জুড়িয়ে যায়, আমি তাকিয়ে থাকি ধোঁয়াহীন সেই কাপে,
তারপর আস্তে করে ঢেলে দিই, আর মনে মনে বলি,
"ফিরে এসো, নইলে এ অভ্যাসটুকুও আমি ছাড়ব না।"
যদি কোনোদিন ফেরো, দরজায় কড়া নেড়ো না,
আমি এখন সারাদিন দরজা খুলেই রাখছি, তোমার জন্য।
কিছু জিজ্ঞেস করবো না, এতদিন কোথায় ছিলে, কেন গিয়েছিলে,
শুধু একবার আমার নাম ধরে ডেকো, ওভাবে, যেভাবে আগে ডাকতে,
তাহলেই আমি বুঝে নেব, তুমি কখনোই কোথাও যাওনি।