রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে জেলা চেম্বারের গভীর উদ্বেগ:আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-১০-১০ ১৯:৫০:০৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ  পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছে জেলা চেম্বার। শনিবার (১০অক্টোবর) দুপুরে চেম্বার ভবনে আয়োজিত সভায় এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ। তিনি বলেন, গত  কয়েক মাসে ডেঙ্গু প্রায় মহামারী রুপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে বহু মানুষ। ডেঙ্গুতে ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী পরিবারেরও কয়েকজন মারা গেছেন। অনেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মিছিল বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা চলতি  অক্টোবর এবং  আসছে নভেম্বরেও ডেঙ্গু বাড়ার আভাষ দিয়েছেন।  পরিস্থিতিতে আতংকিত হয়ে পড়েছে  চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ। সভাপতি দাবি করেন, অবস্থা এত ভয়াবহ যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর  সংখ্য করোনায় মৃত্যুসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এমতাবস্থায় চেম্বার সভাপতি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ডেঙ্গুর ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে সে অনুযায়ী মশক নিধন ও  সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নিকট দাবি জানান। তিনি এজন্য  ১৫-২০ জনের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঠানোরও দাবি তোলেন। তিনি বলেন, পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় পৌরসভা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও  জমে থাকা পানি নিস্কাশনে  যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ ছাড়া পৌর এলাকায় চলমান প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের ধীরগতিও ডেঙ্গু বৃদ্ধির জন্য দায়ী। কারণ খোঁড়াখুড়ির কারণে পানি জমে থাকছে।
এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি  এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন চেম্বার সভাপতি। তিনি বলেন, ক্লিনিক ও বাড়ি থেকে শনাক্ত,চিকিৎসা নেয়া ও মারা যাওয়্ ারোগির তথ্য সরকারি পরিসখ্যানে নেই। অথচ এদের সংখ্যা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগির সংখ্যার চেয়ে বহুগুন বেশি। রাজশাহী,ঢাকাতে উন্নত চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারা যাওয়া রোগির তথ্যও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট নেই।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপরে চলমান জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক  এবং মশার প্রজনণস্থল ধংস কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে চেম্বার কাজ শুরু করেছে। তবে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান,সংগঠনের সমন্বয় দরকার। তিনি  সচেতনতা বাড়াতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে  এমনকি মহল্লায় মহল্লায় কমিটি করার প্রস্তাব দেন। তিনি ক্লিনিক মালিকদের স্বল্প খরচে ডেঙ্গু রোগিদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার আহবান জানান।
সিভিল সার্জন.ডা. এ.কে.এম শাহাবউদ্দীন আহমদ ওইসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জেলার সরকারি হাসপাতালে শনিবার(১০ অক্টোবর) পর্যন্ত চলতি বছর ২ হাজার ৩২৯ জন ডেঙ্গু রোগি ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে জেলা শহরে আক্রান্ত সর্বাধিক। অন্য উপজেলাগুলোতে আক্রান্ত তুলনামুলক অনেক কম। শনিবার জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৯৫ জন রোগি ভর্তি রয়েছেন। ডেঙ্গু রোগিদের চিকিৎসা দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি হিসেবে জেলায় এ পর্যন্ত ৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ  নিয়মিত মশক নিধন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সমন্বয় করছেন। পৌরসভার প্রচেষ্টা চলমান থাকবে। ড্রেন নির্মাণ কাজ জরুরীভাবে শেষ করতে ঠিকবাদারদের বলা হয়েছে।  

 


এ জাতীয় আরো খবর