রাজধানীর পূর্বাচল বেস্টওয়ে সিটির নামে ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেস্টওয়ে গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং প্রস্তাবিত প্রকল্প অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
শনিবার (১০ই অক্টোবর, ২০২৬) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে দেশের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত ভুক্তভোগীদের পক্ষে প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচার ও জীবনের শেষ সঞ্চয় ফিরে পাওয়ার আকুল আবেদন জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০০৭ সাল থেকে চটকদার বিজ্ঞাপন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রবাসী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিচারপতি ও বৃদ্ধ সহ প্রায় ১০ হাজার পরিবারের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দের নামে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা এবং রাস্তার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও সুয়ারেজের নামে আরও শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় মিজানুর রহমান গং। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছর পার হলেও তারা একজন গ্রাহককেও কোনো প্লট বুঝিয়ে দেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রাহকরা জমা টাকা বা প্লট ফেরত চাইতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্লট না পেয়ে এবং জমা অর্থ উদ্ধার করতে না পেরে মানসিক যন্ত্রণা ও উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী মৃত্যুবরণ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের গুরুতর অভিযোগ— পূর্বাচলে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সেই অর্থ দিয়ে মিজানুর রহমান নিজ ও পরিবারের নামে কুয়াকাটা, কক্সবাজার, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত বিঘা জমি কিনেছেন। এছাড়া বিদেশে একাধিক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে কিস্তির টাকা আদায় করে তা বিদেশে পাচার করে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫টি জরুরি দাবি উত্থাপন করা হয়:
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি ও রাজউকের সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করে পূর্বাচল বেস্টওয়ে সিটির সকল ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অনতিবিলম্বে জব্দ করা।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি, দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
প্রস্তাবিত প্রকল্প অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা অথবা ভুক্তভোগী ১০ হাজার পরিবারের জমানো সম্পূর্ণ টাকা সুদসহ ফেরত প্রদান ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
প্রতারক চক্র কর্তৃক ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং ভুক্তভোগীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা।
ভবিষ্যতে যেন আর কোনো আবাসন কোম্পানি সাধারণ মানুষের সাথে এমন প্রতারণা করতে না পারে, সেজন্য রাজউকের অধীনে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করা।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সর্বস্তরের জনগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ ও জরুরি আইনি সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়।