রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬

জেলা হাসপাতালে শয্যা সংকটই চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ বেড়ে যাাওয়া ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রধান অন্তরায়

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৮-১৫ ২১:৫৭:০৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে  হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। আগষ্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এই বৃদ্ধির হার বেশ দ্রুত। রোগিরা ভীড় করে ভর্তি হচ্ছেন জেলার প্রধান চিকিৎসালয় ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে। জেলা হাসপাতালে নেই জটিল রোগির চিকিৎসার সূব্যবস্থা। নেই আইসিইউ,ব্লাড সেপারেটর মেশিন,ডায়ালাইসিস ইউনিট সহ প্রয়োজনীয় সাপোর্টিং ব্যবস্থা। এমনকি অবাক হলেও সত্য যে কোন মেডিসিনের চিকিৎসকও নেই। অন্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসাররাই রোগি দেখছেন। তবে  রোগ শনাক্ত করে সাধারণ রোগিদের জটিলতা এড়ানোর মত প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা,ওষুধ,আইডি স্যালাইন,পর্যবেক্ষণ এসব রয়েছে। এ অবস্থায় রোগিদের প্রাথমিক অবস্থা মোকাবেলায় চিকিৎসার  প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক শয্যা।  কোন রোগিকে ফেরৎ দেয়া না হলেও ভর্তি করে রাখা হচ্ছে মেঝেতে। হাসপাতালের সার্বিক পরিবশেও চিকিৎসা সহায়ক নয়। এক রোগের চিকিৎসা নিতে এসে ডায়ারিয়াসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিও রয়েছে। রোগির অবস্থা একটু ক্রিটিক্যাল হলেই পাঠানো হচ্ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে, রোগি ও চিকিৎসা সংম্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার(১৫ আগষ্ট) হাসপাতালে ভর্তি  ছিলেন ৫০ জন রোগি। যা গত শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) ছিল ২৮। একদিনেই ভর্তি সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন ।  শনিবার নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৮ জন। ৫ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। একজন রাজশাহী রেফার্ড হয়েছেন। জেলায় জুন পর্যন্ত অবস্থা ভাল ছিল। জুলাই থেকে রোগি  বাড়তে থাকে। আগষ্টে এই হার অনেক বেড়েছে।  জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২৪ জন। বর্হিবিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ১৯৪ জন। তবে সংম্লিস্টরা বলছেন, প্রাইভেট ক্লিনিকে শনাক্ত হওয়া রোগির সংখ্যা বহুগৃুন বেশি। এমনকি  অনেকে চিকিৎসার জন্য ব্যাক্তিগতভাবে রাজশাহী ও ঢাকা চলে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেট ডা. জমির মো.হাসিবুস সাত্তার বলেন, অবস্থা মোকাবেলায় ২৫ শয্যার ডেঙ্গু কর্নার চালু হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। এখন চালু না হওয়া ডায়ালাইসিস ইউনিটে আরও  ২০ টি শয্যা দেয়া হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ৮৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৪৩ জন চিকিৎসক নেই। প্রদিদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকে গড়ে কমপক্ষে ৫০০ রোগি। বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নেয় দেড় থেকে দুই হাজার রোগি। হিমসিম অবস্থা। সামনে আরও ২ মাস গরম ও বৃষ্টি আছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন,রোগি আরও বাড়বে। এখনও কোন মৃত্যর ঘটনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, অবণতিশীল অবস্থা মোকাবেলায় সকলকে একযোগে চেষ্টা করতে হবে। বিদ্যূৎ সমস্যায় হাসপাতালের জেনারেটর অর্থাভাবে ঠিকমত চালানো যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি  আরও বলেন, এমনিতেই জেনারেটর পর্যাপ্ত নয়। ডেঙ্গু রোগিদের প্লাটিলেট কাউন্টের মেশিন (হেমাটোলজিকাল এনালাইজার) নষ্ট জানালে তিনি বলেন, এটি দ্রুত ঠিক করা হবে। এক্সরে ফিল্ম সংকটের কথাও তিনি স্বীকার করেন। তবে হাসপাতালের দুটি এ্যাম্বুলেন্স র্ঠিক আছে বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন ডা, এ.কে.এম সাহাবুদ্দীন বলেন, হঠাৎ খারাপ অবস্থা জেলা সদরের। তবে অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগি ভর্তি হতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে দুটি সভা করে দিক নির্দেশণা ঠিক করা হয়েছে।  

 


এ জাতীয় আরো খবর