ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
পায়ের পচনে চারপাশে ছড়াচ্ছে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ, যার কারণে ভয়ে বা অস্বস্তিতে কাছে ঘেঁষছেন না সাধারণ মানুষ। আর সেই পচন ধরা ক্ষতে জন্ম নিয়েছে শত শত বড় পোকা! পোকার কামড় আর অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় দিন-রাত ছটফট করছেন, অথচ দেখার বা পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই-এমনই করুণ জীবনযাপন করছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চাংগুইটারী গ্রামের এতিম ও মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক রিপন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবা-মা হারা হতভাগা এই ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। কিছুদিন আগে পায়ে গুরুতর আঘাত পেলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় সেখানে মারাত্মক পচন ধরে। বর্তমানে তাঁর পায়ের ক্ষতে শত শত পোকা কিলবিল করছে।
পচনের তীব্র যন্ত্রণা ও পোকার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৮ জুলাই রিপন আমার দোকানের সামনে এসে আবারো আকুতি জানান। তাঁর সেই কষ্ট ও যন্ত্রণার ছটফটানি সহ্য করতে না পেরে আমি আব্দুল হালিম নিজ উদ্যোগে এগিয়ে যাই। তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যেও আমার পাশের দোকান -এর স্বত্বাধিকারী মানবিক মশিয়ার ভাইও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। আমরা দুজনে মিলে সাধ্যমতো তাঁর ক্ষতস্থান প্রাথমিক ড্রেসিং করি এবং পোকাগুলো বের করে পরিষ্কার করার প্রাণপণ চেষ্টা চালাই।
ঘটনার অনুভূতি প্রকাশ করে আব্দুল হালিম বলেন, "পায়ের দুর্গন্ধে কেউ কাছে আসতে চায় না। আমারও মন বলছিল না সামনে যাওয়ার, তাকে চিনিও না জানিও না। কিন্তু একজন জীবিত মানুষের শরীরে এভাবে পোকা কামড়ে ধরেছে আর সে যন্ত্রণায় ছটফট করছে-এই দৃশ্য দেখে স্থির থাকতে পারিনি। আমি ও মশিয়ার ভাই চেষ্টা করেছি, কিন্তু সাধারণ ড্রেসিংয়ে এই পা বাঁচানো সম্ভব নয়।"
তিনি বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী দল অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করে, আমি তাদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি-আপনারা দ্রুত ডিমলায় এসে রিপনের পা বাঁচানোর ব্যবস্থা করুন। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে হয়তো এই এতিম ছেলেটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।"
উল্লেখ্য, কোনো প্রকার আর্থিক অনুদান নয়; কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি বা চিকিৎসক দল যদি সরাসরি উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা ও সেবামূলক সহায়তার দায়িত্ব নেন, তবেই হয়তো এই অসহায় মানুষটি পচনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।