রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬

'পিঁপড়ের রাজপথ'

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৮-০৭ ২১:২২:১৩
প্রতীকী ছবি

বন্ধুরা,গত পর্বে আমরা মাটির নিচের গোপন শহরের দরজায় দাঁড়িয়েছিলাম। আজ সেই শহরের ভেতরে প্রবেশ করব। তবে মনে রেখো,আমরা অতিথি-এই শহরের কোনো বাসিন্দার ক্ষতি না করেই তাদের জীবনকে জানব।

রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
নতুন অধ্যায়: 'মাটির নিচের গোপন শহর'
পর্ব–৫২: 

সকালের রোদ পাতার ফাঁক গলে মাটিতে পড়েছে।
রাহি, অরণ আর শিসু আজ খুব ভোরেই বটদাদুর কাছে এসেছে।
তাদের হাতে একটি ছোট্ট আতসকাচ।
নাসির স্যারই দিয়েছেন।
তিনি বলেছিলেন,
-'দূরের পৃথিবী দেখতে দূরবীন লাগে,আর কাছের পৃথিবী দেখতে লাগে মনোযোগ।'

তিন বন্ধু হাঁটু গেড়ে বসে আবার সেই পিঁপড়ের গর্তের সামনে তাকাল।
আজ যেন দৃশ্যটা আরও স্পষ্ট।
একটি সরু পথ ধরে শত শত পিঁপড়ে একদিকে যাচ্ছে।
আরেকটি পথ ধরে ফিরে আসছে।
কেউ শুকনো ধানের দানা বহন করছে।
কেউ ছোট্ট একটি ফুলের পাপড়ি।
আবার কেউ একফোঁটা শুকিয়ে যাওয়া মধু নিয়ে ফিরছে।

শিসু অবাক হয়ে বলল,
-'এরা কি কখনো পথ হারায় না?'

ঠিক তখনই বটপাতা নরম শব্দে দুলে উঠল।
বটদাদুর কণ্ঠ ভেসে এল,
-'পথ শুধু চোখে দেখা যায় না। কিছু পথ গন্ধেও লেখা থাকে।'

অরণ বিস্ময়ে বলল,
-'গন্ধের পথ?'

নাসির স্যার মৃদু হেসে বললেন,
-'পিঁপড়েরা চলার সময় মাটিতে বিশেষ গন্ধের চিহ্ন রেখে যায়। পরে অন্য পিঁপড়েরা সেই গন্ধ অনুসরণ করে খাবার বা বাসার পথ খুঁজে পায়।'

রাহি সঙ্গে সঙ্গে নোটবই খুলে লিখল,
'নতুন সূত্র-পিঁপড়েদের অদৃশ্য রাস্তার নাম গন্ধের পথ।'

এমন সময় একটি শুকনো ডাল পথের মাঝখানে পড়ে গেল।
কয়েক মুহূর্তের জন্য পিঁপড়েদের সারি থেমে গেল।

শিসু বলল,
-'এবার বুঝি সবাই আটকে গেল!'

কিন্তু না।
কিছু পিঁপড়ে ডাল বেয়ে ওপরে উঠল।
কিছু নিচ দিয়ে ঘুরে গেল।
অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন পথ তৈরি হয়ে গেল।

অরণ মুগ্ধ হয়ে বলল,
-'ওরা কেউ কাউকে ধাক্কা দিচ্ছে না!'

বটদাদু বললেন,
-'একসঙ্গে কাজ করলে ছোটরাও বড় বাধা পার হতে পারে।'

ঠিক তখন রাহির চোখে পড়ল,একটি পিঁপড়ে উল্টে পড়েছে।
মুহূর্তের মধ্যে আরও দুইটি পিঁপড়ে তার কাছে এসে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণ পর সে আবার উঠে নিজের সারিতে ফিরে গেল।

শিসু আনন্দে হাততালি দিতে গিয়ে থেমে গেল।
সে আস্তে বলল,
-'ওরা যেন বন্ধুকে একা ছেড়ে দিল না।'

নাসির স্যার মাথা নাড়লেন।
-'প্রকৃতিতে সহযোগিতা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন।'

ঠিক তখনই পাশের মাটিতে একটি ছোট্ট কেঁচো মাথা বের করল।
সে ধীরে ধীরে আবার মাটির ভেতরে মিলিয়ে গেল।

বটদাদু মৃদু হেসে বললেন,
-'আজ পিঁপড়েদের সঙ্গে পরিচয় হলো। কাল তোমাদের দেখা হবে সেই নীরব কৃষকের সঙ্গে, যে কথা না বলেই মাটিকে উর্বর করে তোলে।'

ফেরার আগে রাহি ডায়েরিতে লিখল,
-'আজ বুঝলাম, ছোট্ট একটি পিঁপড়ের পথও আমাদের বড় শিক্ষা দিতে পারে।'

বটদাদুর শেষ কথাটি সকালের বাতাসে ভেসে রইল,
-'শক্তি শুধু বড় শরীরে থাকে না। ঐক্য আর শৃঙ্খলাও বড় শক্তি।'

আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি ছোট প্রাণীদের অবহেলা করব না। প্রকৃতির প্রতিটি জীবের কাজকে সম্মান করব এবং তাদের আবাস অকারণে নষ্ট করব না।

সবুজ তথ্যঃ
পিঁপড়েরা নিজেদের মধ্যে রাসায়নিক গন্ধের সংকেত ব্যবহার করে যোগাযোগ করে। এই গন্ধের পথ অনুসরণ করেই তারা খাবার খুঁজে পায়, বাসায় ফিরে আসে এবং অন্য পিঁপড়েদেরও সঠিক পথ দেখায়।

বন্ধুরা,আজ আমরা 'পিঁপড়ের রাজপথ' দেখলাম। আগামীকাল 'নীরব কৃষক'-এ রাহি, অরণ ও শিসু আবিষ্কার করবে কেঁচোর বিস্ময়কর জগৎ। তারা জানবে,যে প্রাণীটিকে অনেকেই সাধারণ মনে করে, সেই কেঁচোই কীভাবে নীরবে মাটিকে উর্বর করে, গাছকে শক্তি জোগায় এবং ভবিষ্যতের ফসলের ভিত্তি গড়ে তোলে।


এ জাতীয় আরো খবর