ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি উদার, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টির যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। তিনি বলেন, মৌলবাদকে উৎসাহ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের সম্প্রীতির দেশ। এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি ছিল সাম্য, ঐক্য এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা।
গত দেড় দশকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব নাগরিকের সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অপরিহার্য।
রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বড় ধর্মীয় আয়োজনগুলো নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। তাঁর ভাষায়, কাউকে আলাদা করে সংখ্যালঘু হিসেবে দেখা হয় না; সবাই এই দেশের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তাই নিজেদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থেকেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
সম্প্রীতি, গণতন্ত্র, ধর্মীয় ঐক্য