শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬

গুরু-শিষ্যের বিশ্বকাপ মহারণ,ফাইনালে মুখোমুখি স্কালোনি ও ডি লা ফুয়েন্তে

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-১৭ ১০:২৪:৪৬
ফাইল ছবি

বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি হয়ে উঠছে এক সময়ের শিক্ষক ও ছাত্রেরও মুখোমুখি হওয়ার গল্প। রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির বিপরীতে স্পেনকে নেতৃত্ব দেবেন তার সাবেক প্রশিক্ষক লুইস ডি লা ফুয়েন্তে।
বর্তমানের দুই সফল কোচের সম্পর্কের শুরু প্রায় এক দশক আগে। ২০১৭ সালে কোচিং পেশায় নিজেকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের লাস রোসাস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পেশাদার কোচিং সনদের কোর্সে অংশ নেন সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার স্কালোনি। সেই কোর্সে তার অন্যতম শিক্ষক ছিলেন লুইস ডি লা ফুয়েন্তে।
এর অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুজনের পথচলা নতুন মোড় নেয়। ২০১৮ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পান স্কালোনি। পরে তার নেতৃত্বেই বদলে যায় আর্জেন্টিনার ভাগ্য। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় দলটি। এরপর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার ট্রফি জিতে আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন তিনি।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর স্পেনের দায়িত্ব নেন ৬৫ বছর বয়সী ডি লা ফুয়েন্তে। তার অধীনেই ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে ঘুরে দাঁড়ায় স্পেন। ২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি দলকে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালেও তোলেন তিনি। এবার তার হাত ধরে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।
ফাইনালের আগে দুই কোচই একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর স্কালোনি বলেন, ডি লা ফুয়েন্তে তার কোচিং জীবনের অন্যতম পথপ্রদর্শক। কোচিং সম্পর্কে নিজের অর্জিত জ্ঞানের বড় অংশই তার কাছ থেকে শেখা। বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই মানুষের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারা তার জন্য বিশেষ অনুভূতির।
স্কালোনি আরও বলেন, কাতার বিশ্বকাপের পর কোচদের এক সম্মেলনে তাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। স্পেন জাতীয় দলকে ডি লা ফুয়েন্তে যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে এবং তার এই সাফল্যে তিনি আনন্দিত।
খেলোয়াড়ি জীবনের বড় সময় স্পেনে কাটানো স্কালোনির ব্যক্তিগত জীবনও দেশটির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তার স্ত্রী এলিসা মনতেরো স্পেনের নাগরিক এবং দুই সন্তানকে নিয়ে পরিবারটির বসবাস মায়োর্কায়। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরে মাঠে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট।
স্কালোনির ভাষায়, স্পেন তার দ্বিতীয় ঘর হলেও ফাইনালে লক্ষ্য থাকবে শুধু আর্জেন্টিনার জয়। ডি লা ফুয়েন্তের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে তাকে হারানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবেন তিনি।
অন্যদিকে সাবেক ছাত্রকে নিয়ে ডি লা ফুয়েন্তেও উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থেকে স্কালোনি সব বড় শিরোপাই জিতেছেন। তার ফুটবল দর্শনের অনেক দিকের সঙ্গে তিনি একমত। ব্যক্তিগত ও পেশাগত-দুই ক্ষেত্রেই স্কালোনির প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণকাল থেকেই স্কালোনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতা তাকে আলাদা করে তুলেছিল। শিক্ষক হিসেবে এমন একজনকে গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়া গর্বের, আর আজও তাদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনালে তাই শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবল বিশ্ব দেখবে শিক্ষক-শিষ্যের এক অনন্য দ্বৈরথ।

স্কালোনি, স্পেন, বিশ্বকাপ


এ জাতীয় আরো খবর