বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬

সমানে সমানে লড়াই: সেমিফাইনালে এমবাপ্পের গতি বনাম স্পেনের জমাট রক্ষণ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৬-০৭-১৪ ২০:০১:০৩

​বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ডালাসের আঙিনায় আজ মুখোমুখি দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ, অন্যদিকে স্পেনের অভেদ্য রক্ষণ। ইতিহাসের পাতায় দুই দলের লড়াই যেমন উত্তেজনার পারদ চড়ায়, এবারের প্রেক্ষাপট তার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর।
​ইউরো ২০২৪ বিজয়ী স্পেন এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছে। কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতার নতুন উচ্চতায় থাকা দলটির প্রধান শক্তি তাদের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ। বেলজিয়াম ম্যাচের আগ পর্যন্ত টানা ছয় ম্যাচে গোল না খেয়ে তারা গড়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাস। উনাই সিমনের বিশ্বস্ত হাত এবং পেদ্রো পোরো, আমেরিক লাপোর্তে ও মার্ক কুকুরেয়ারার নিশ্ছিদ্র দেয়াল ভাঙা যেকোনো দলের জন্যই দুঃস্বপ্ন। মাঝমাঠে ব্যালন ডি অর জয়ী রদ্রির নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর পজেশনভিত্তিক ফুটবল স্পেনের মূল অস্ত্র। আক্রমণভাগে লামিন ইয়ামাল তার জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখাতে প্রস্তুত, আর মিকেল ওইয়ারসাবাল বা 'সুপার সাব' মিকেল মরেনোর মতো খেলোয়াড়রা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
​বিপরীতে, ফ্রান্সের নাম শুনলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে কাঁপন ধরে। কিলিয়ান এমবাপ্পে কেবল গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নয়, সর্বকালের রেকর্ড ভাঙার পথে ছুটছেন। উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের গতিময় আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণের জন্য বড় ভীতি। এবারের দলে নতুন প্রাণশক্তি হয়ে এসেছেন ওলিসে, যিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে বল সরবরাহ করতে ওস্তাদ। অভিজ্ঞ আদ্রিয়ান রাবিও এবং মানু কোনের সমন্বয়ে ফ্রান্সের মধ্যমাঠ এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ, যা নকআউট পর্বে তাদের কোনো গোল হজম না করতেই সাহায্য করেছে। এছাড়া দিদিয়ের দেশমের হাতে থাকা বেঞ্চের গভীরতা যেকোনো সময় খেলার চিত্র বদলে দিতে পারে।
​কৌশলের লড়াই
ম্যাচটি মূলত পরিণত হবে ট্যাকটিক্যাল দাবা খেলায়। রদ্রি চেষ্টা করবেন স্পেনের পজেশনাল ফুটবল দিয়ে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে, অন্যদিকে ফ্রান্স চাইবে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে সেই গতি নষ্ট করতে। স্পেনের ডিফেন্ডার পোরো এবং কুকুরেয়া যদি এমবাপ্পে ও দেম্বেলের গতি সামলে নিতে পারেন, তবে স্পেন বড় স্বস্তিতে থাকবে। কিন্তু কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফ্রান্সের গতিময় ফুটবল স্পেনের রক্ষণে চির ধরাতে পারে।
​ইতিহাসের আয়না
পরিসংখ্যান বলছে, ঐতিহাসিকভাবে দুই দল ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ১৮ জয়ে এগিয়ে আছে স্পেন। ফ্রান্সের জয় ১৩টি, আর ড্র হয়েছে ৭টি ম্যাচে। তবে বিশ্বকাপ মঞ্চে ২০০৬ সালের একমাত্র সাক্ষাতে ৩-১ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। সাম্প্রতিক সময়ের কথা বললে, নেশন্স লিগ এবং ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে স্পেন জয়ী হওয়ায় তাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে।
​ডালাসের আধুনিক স্টেডিয়ামের ছাদযুক্ত পরিবেশে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও মাঠের উত্তাপ নিশ্চিতভাবেই চরমে পৌঁছাবে। ফুটবলপ্রেমীরা প্রস্তুত এক ধ্রুপদী লড়াইয়ের জন্য। এখন দেখার অপেক্ষা-দেশমের রণকৌশল নাকি স্পেনের রক্ষণের দৃঢ়তা, শেষ পর্যন্ত ফাইনালের টিকিট কাড়ে?


এ জাতীয় আরো খবর