শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬

মেসির জাদুতে শেষ মুহূর্তে জয়,ফাইনালে আর্জেন্টিনা

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-১৬ ১১:৩৪:৪৮
ছবি: সংগৃহীত।

এক গোল পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লটারো মার্টিনেজের জোড়া গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অক্ষুণ্ন রাখল লিওনেল মেসির দল। এবার শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রায় ৬৮ হাজার দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে থমাস টুখেলের শিষ্যদের।
প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল সতর্ক। মাঝমাঠের লড়াই, একাধিক ফাউল এবং কড়া ট্যাকলের কারণে খেলার গতি বারবার থেমে যায়। লিওনেল মেসিকে কঠিন ট্যাকল করায় ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন হলুদ কার্ড দেখেন। তবে বিরতির আগে কোনো দলই উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
বিরতির পর ম্যাচে গতি বাড়ায় দুই দল। ৫৫তম মিনিটে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। আক্রমণের সূচনা করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। ডান দিক থেকে মর্গান রজার্সের নিচু ক্রসে নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে অ্যান্থনি গর্ডন সহজেই বল জালে জড়ান।
গোলের পর ইংল্যান্ড রক্ষণভাগ শক্তিশালী করে খেলতে শুরু করলে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা। নিকো গঞ্জালেসের হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। পরে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড।
তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার অবিরাম চাপ সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ শক্তিশালী শটে সমতা ফেরান।
এরপর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির জাদু। তাঁর নিখুঁত ক্রসে বদলি হিসেবে নামা লটারো মার্টিনেজ দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের টিকিট এনে দেন।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার স্মরণীয় ম্যাচের সঙ্গে এ লড়াইয়ের তুলনা না হলেও, ইতিহাসের আরেকটি নাটকীয় অধ্যায় যোগ করল দুই দলের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
২০২২ সালে কাতারে শিরোপা জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সেও তিনি দলকে টেনে তুলছেন সামনে থেকে। এই জয়ে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার কীর্তি গড়লেন।
একই সঙ্গে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনাও জীবিত রাখল আর্জেন্টিনা।
আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের মহারণ। ৪৮ দলের নতুন সংস্করণের প্রথম বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের সেরা দল স্পেন। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে এটিই হবে মেসির বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচ।
অন্যদিকে, ৬০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে ফেরার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় ইংল্যান্ডকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে। শনিবার মিয়ামিতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স।

আর্জেন্টিনা, মেসি, বিশ্বকাপ


এ জাতীয় আরো খবর