ফুটবল মাঠে রূপকথা যে এখনো বাস্তব হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসিরা। প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে মাত্র ৭ মিনিটের এক অবিশ্বাস্য ফুটবলীয় ঝড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো আর্জেন্টিনা। যেন এক মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলো বিশ্ব ফুটবল।
ম্যাচের শুরু থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের রক্ষণদুর্গে প্রবল চাপ সৃষ্টি করলেও, গোল পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল তাদের। বরং খেলার ধারার বিপরীতে গোল খেয়ে বসে স্কালোনির শিষ্যরা। নির্ধারিত সময়ের শেষ প্রান্তে এসেও যখন পরাজয়ের প্রহর গুনছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা, তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে আর্জেন্টিনা ফুটবলশৈলীর।
ম্যাচের ৮৩তম মিনিট থেকে ৯০তম মিনিট—এই সাতটি মিনিট ছিল যেন কোনো রূপকথার চিত্রনাট্য। মাঠের প্রতিটি প্রান্ত থেকে আছড়ে পড়া আক্রমণের ঢেউ, নিখুঁত পাসিং এবং গোল করার অদম্য জেদ—এই তিনের সমন্বয়ে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে সমতা ফেরানোর পাশাপাশি জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। গ্যালারিজুড়ে তখন নীল-সাদা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস আর উত্তাল সমুদ্রের গর্জন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জানতাম সময় আমাদের হাতে নেই। কিন্তু এই দলের খেলোয়াড়দের হার না মানা মানসিকতাই আমাদের এই অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছে। ফুটবল ৯২ মিনিটের খেলা, আর আমার ছেলেরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তা বিশ্বাস করে।”
এই জয় কেবল ফাইনালে ওঠার মাধ্যম নয়, বরং এটি ফের প্রমাণ করলো যে কেন ফুটবলের শেষ বাঁশি বাজার আগে আর্জেন্টিনাকে হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। এই প্রত্যাবর্তনের গল্প বহুদিন মনে রাখবে বিশ্ব ফুটবল। এখন শুধুই শিরোপার হাতছানি—ফুটবল প্রেমীদের চোখ এখন ফাইনালের মঞ্চে, যেখানে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।