শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬

এ স এ ম আ জা দ হো সে ন

  • মায়েরা কখনও হিসাব রাখে না
  • ২০২৬-০৭-০২ ২১:১৫:০৯

আজ শেষ চাবিটাও তুলে দিলাম
যাদের জন্য সারাজীবন দরজা খুলে রেখেছিলাম।
স্বামীর রেখে যাওয়া প্রতিটি আমানত 
সন্তানদের হাতে তুলে দিয়ে নিঃশব্দে বললাম-
আলহামদুলিল্লাহ,আমার দায়িত্ব শেষ।

ত্রিশটি বছর...ক্যালেন্ডারের কাছে 
হয়তো মাত্র কিছু সংখ্যা,
কিন্তু একজন মায়ের কাছে 
এগুলো হাজারো নির্ঘুম রাত,
অগণিত না-পাওয়া,অসংখ্য বিসর্জনের নাম।

স্বামী চলে যাওয়ার দিন আমি বিধবা হইনি,
আমি হয়ে গিয়েছিলাম একটি সংসারের ছাদ,
একটি সন্তানের সাহস,
একটি পরিবারের শেষ আশ্রয়।

আমার চোখেও জল ছিল,
কিন্তু সে জলকে আমি সন্তানদের স্বপ্নের সামনে
কখনো দাঁড়াতে দিইনি।
নিজের ইচ্ছেগুলো এক এক করে কবর দিয়েছি,
শুধু ওদের ভবিষ্যৎটা বেঁচে থাকুক বলে।

আজ যখন সব ভাগ করে দিলাম,তখন বুঝলাম-
আমার কাছে আর কিছু নেই...
না,একটা জিনিস এখনও আছে-
প্রতিটি সন্তানের জন্য একজন মায়ের নিঃস্বার্থ দোয়া।

অদ্ভুত এই পৃথিবী!
যে মানুষটি নিজেকে শেষ করে 
সবাইকে পূর্ণ করে,
অভিযোগের তীরও সবচেয়ে বেশি 
তাকেই বিদ্ধ করে।

তবু আমি অভিমান করিনি।
কারণ মায়েরা জানে,
অভিমানের চেয়ে ক্ষমা অনেক বড়,
আর ভালোবাসার চেয়ে 
কোনো উত্তর বড় নয়।

আজ আমার ঘর নীরব,আলমারি ফাঁকা,
হাত দুটি অবসর নিয়েছে-
কিন্তু আমার রব জানেন,
আমি কখনো দায়িত্ব থেকে পালাইনি।

হে আল্লাহ,আমার সন্তানদের সুখের আকাশ 
আরও বড় করে দিন।
তাদের জীবনের সব কষ্ট
আমার ভাগে লিখে দিন,
তবু তাদের চোখে 
এক ফোঁটা অশ্রুও যেন না আসে।

কারণ,মায়েরা সম্পত্তি ভাগ করে দিতে পারে,
কিন্তু ভালোবাসা কখনও ভাগ করে দেয় না।
সেটা মৃত্যুর আগের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত
একই রকম পূর্ণ থাকে।


এ জাতীয় আরো খবর