মহেশখালী (কক্সবাজার)
মহেশখালীতে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি পালন করেছে মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদল। পরীক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সহায়তা নিশ্চিত করতে তথ্য সহায়তা ডেক্স স্থাপন, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বিশুদ্ধ ঠান্ডা খাবার পানি ও খাবার স্যালাইন সরবরাহসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আগত অভিভাবকদের ছোট শিশুদের মাঝে চকলেট ও হালকা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
০২ জুলাই(বৃহস্পতিবার) মহেশখালী কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান। কর্মসূচিটি পরিচালিত হয় কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতা উল্লাহ বোখারীর দিকনির্দেশনায়।
সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান,পরীক্ষা কক্ষ শনাক্তকরণে সহায়তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন।
আয়োজক সূত্র জানায়,চলমান গরম আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি ও খাবার স্যালাইনের ব্যবস্থা করা হয়।
অনেক পরীক্ষার্থী দূরদূরান্ত থেকে কেন্দ্রে আসায় তারা যাতে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে না পড়ে সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি শিশুদের জন্য চকলেট ও খাবার বিতরণের মাধ্যমে অভিভাবকদের মাঝেও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান বলেন,“শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমেও বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন,“শিক্ষা, ঐক্য,প্রগতি এই মূলনীতিকে ধারণ করেই ছাত্রদল কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ও মানবিক সমাজ গঠনে আমরা ভূমিকা রাখতে চাই।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে,রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর এমন শিক্ষাবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয় এবং তরুণদের সামাজিক দায়িত্ববোধ
বৃদ্ধি করে।
কর্মসূচিতে মহেশখালী উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী দায়িত্ব পালন করেন।
শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সহমর্মিতার উদাহরণ নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।