শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬

মাতারবাড়ীতে বেড়িবাঁধ সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ,বাঁধের পাশ থেকেই বালু কেটে জিও ব্যাগ স্থাপন,

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৭-০২ ২২:৩২:৩৬

মহেশখালী (কক্সবাজার) 

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, দায়সারা তদারকি এবং বাঁধের পাশ থেকেই বালু কেটে জিও ব্যাগ স্থাপনের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। 
এলাকাবাসীর অভিযোগ,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে প্রকল্পটি এখন উপকূল রক্ষার পরিবর্তে নতুন করে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরঘেঁষা মাতারবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন, জোয়ারের পানি প্রবেশ ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে জনপদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিলেও মাঠপর্যায়ে কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে সরাসরি বেড়িবাঁধের পাশ থেকেই বালু উত্তোলন করছে। পরে সেই বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভর্তি করে আবার একই স্থানে ফেলা হচ্ছে। এতে একদিকে বাঁধের মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উপকূলীয় এই বেড়িবাঁধই হাজারো মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও লবণ মাঠ রক্ষার একমাত্র ভরসা। অথচ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে পুরো এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মাতারবাড়ীর একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “সরকার জনগণের নিরাপত্তার জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে নিম্নমানের কাজের কারণে সেই টাকার সুফল মানুষ পাচ্ছে না। বাঁধ রক্ষার নামে আবার বাঁধ কেটে বালু তোলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ।”
স্থানীয় জেলে ও কৃষকরা জানান, বর্ষা মৌসুম ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে এই দুর্বল বাঁধ টিকবে কি না তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। তাদের আশঙ্কা, বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, কৃষিজমি ও লবণ মাঠের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
এলাকার সচেতন মহল বলছে, উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অথচ মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমতো কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের পুরো কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে টেকসই ও মানসম্মতভাবে বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মাতারবাড়ী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে চলমান বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে উপকূল রক্ষায় শক্তিশালী বেড়িবাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ জাতীয় আরো খবর