বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

ইয়ামালের প্রত্যাবর্তনে উড়ল স্পেন,সৌদি আরবকে উড়িয়ে শীর্ষে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-২২ ১১:৩১:১০
ছবি: সংগৃহীত।

চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই নিজের গুরুত্ব নতুন করে প্রমাণ করলেন লামিন ইয়ামাল। তরুণ এই তারকার গোলে জমে থাকা আক্রমণাত্মক অচলাবস্থা ভেঙে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্পেন। দাপুটে এই জয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষস্থানও দখল করেছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে প্রায় দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পান ইয়ামাল। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই জালের দেখা পেয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে স্পেনের দীর্ঘ গোলখরারও অবসান ঘটে তার পায়ে।
ইয়ামালের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর থেমে থাকেনি স্পেন। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় মিকেল ওয়ারজাবাল প্রথমার্ধেই দুটি গোল করে ব্যবধান ৩-০-তে নিয়ে যান। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্প্যানিশরা।
প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখালেও আক্রমণে কার্যকারিতার অভাব ছিল স্পষ্ট। সেই হতাশার জবাব এবার মাঠেই দিল লুইস ডি লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
দলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে ইয়ামালের পাশাপাশি পেদ্রো পোরো, দানি ওলমো ও আলেক্স বায়েনাকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেন স্প্যানিশ কোচ। সেই পরিবর্তনের সুফলও দ্রুত মিলেছে। বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ গোলের পর থেকে আড়াই হাজারের বেশি পাস ও অর্ধশতাধিক শট নেওয়ার পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় স্পেন।
প্রথম গোলের সূত্রপাত করেন ওয়ারজাবাল। সৌদি রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা তৈরি করে দেওয়া তার নিচু ক্রস সহজেই জালে পাঠান ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল।
প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করা সৌদি আরব এদিন স্পেনের গতিময় ফুটবলের সামনে অনেকটাই অসহায় ছিল। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে পুরো সময়জুড়ে।
দ্বিতীয় গোলটি আসে কর্নার থেকে। অমারিক লাপোর্তের হেড থেকে ফিরে আসা বল কাজে লাগিয়ে ওয়ারজাবাল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তিন মিনিট পর দানি ওলমোর তৈরি করা সুযোগ থেকে ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্পেনকে আরও স্বস্তিতে নিয়ে যান তিনি।
জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওয়ারজাবালের এটি ছিল শেষ ১৩ ম্যাচে ১৪তম গোল। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তার এক শট ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।
বিরতির আগেই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ইয়ামাল ও ওয়ারজাবালকে বিশ্রামে তুলে নেন ডি লা ফুয়েন্তে। তবে তাতেও স্পেনের আক্রমণ থামেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি কর্নার থেকে আসে চতুর্থ গোল। মার্ক কুকুরেলার শট প্রথমে ঠেকান সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়েসিস। কিন্তু ফিরতি বল দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসান আল-তামবাকতির গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
নিজের ৬৫তম জন্মদিনে এমন জয় কোচ ডি লা ফুয়েন্তের জন্য ছিল আদর্শ উপহার। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফেরা নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মোরিনোও এদিন মাঠে নেমে খেলার ছন্দ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে সৌদি আরবের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় পেলে ৩২ বছর পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বেঁচে থাকবে তাদের।
স্পেন অবশ্য এখন আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। সেই লড়াইয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।

স্পেন, লামিন ইয়ামাল, সৌদি আরব, বিশ্বকাপ, ওয়ারজাবাল


এ জাতীয় আরো খবর