মহেশখালী (কক্সবাজার)
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মানুষের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
প্রতিষ্ঠানটিতে দ্বিতীয় দফায় সিজারিয়ান অপারেশন (সিজার) সেবা চালু হওয়ার পর সফলভাবে ১০০তম সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এ অর্জনকে স্থানীয়রা দ্বীপাঞ্চলের মা ও নবজাতকদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে মহেশখালীর গর্ভবতী নারীদের প্রসবজনিত জটিলতায় নানা ভোগান্তির শিকার হতে হতো।
জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হলে রোগীদের নৌপথে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হতো।
অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকূল আবহাওয়া ও সময়ক্ষেপণের কারণে রোগী ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ত।
এ বাস্তবতায় মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা গর্ভবতী নারীরা স্থানীয়ভাবেই জরুরি প্রসূতি সেবা ও অপারেশনের সুবিধা পাচ্ছেন।
ফলে চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি রোগী স্থানান্তরের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সিজারিয়ান অপারেশন সেবা পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দক্ষতার সঙ্গে অপারেশন পরিচালনা করে আসছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ১০০তম সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।
এ সাফল্যের পেছনে হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুল হকের নেতৃত্ব ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রসূতি সেবাকে আরও কার্যকর করতে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সিজারিয়ান অপারেশন সেবা নিয়মিত ও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মহেশখালীর মতো একটি দ্বীপাঞ্চলে সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি বড় অর্জন।
বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখন নিজ এলাকায় স্বল্প খরচে উন্নত প্রসূতি সেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতে জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা গেলে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
১০০তম সফল সিজারিয়ান অপারেশনের এ অর্জনে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগামী দিনগুলোতেও সেবার পরিধি ও মান আরও বৃদ্ধি করে দ্বীপবাসীর আস্থার কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।