বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

ইরানের রক্ষণভাগে আটকে গেল বেলজিয়াম,বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনীভূত

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-২২ ১১:০৭:৫১
ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের দেখা পেল না বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ-জি’র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইউরোপের এই দলকে। ম্যাচের শেষভাগে একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য।
দুই ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে এখন গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার লড়াইয়ে বেশ চাপের মুখে রয়েছে বেলজিয়াম। আগের আসরেও প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলটি এবারও একই শঙ্কায় পড়েছে।
কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু, থিবো কোর্তোয়ার মতো অভিজ্ঞ তারকাদের নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ছন্দ খুঁজে পায়নি বেলজিয়াম। অন্যদিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ইরান বারবার প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
প্রথমার্ধে এক চমৎকার পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে মেহদি তারেমি বল জালে পাঠালেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যবেক্ষণে অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। ফলে ইরান সম্ভাব্য লিড থেকে বঞ্চিত হয়।
গ্রুপের চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিই এখন পর্যন্ত ড্র হওয়ায় সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। তবে শেষ ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম, যা তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ। অন্যদিকে ইরানের শেষ প্রতিপক্ষ মিশর।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভ্রমণসংক্রান্ত নানা জটিলতা ও মানসিক চাপের মধ্যেও ইরান মাঠে দারুণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষেও তারা সংগঠিত ফুটবল উপহার দিয়েছে।
পাঁচ সদস্যের রক্ষণভাগ সাজিয়ে ম্যাচ শুরু করে ইরান। ফলে বেলজিয়াম দীর্ঘ সময় বলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। আক্রমণে তাদের প্রচেষ্টা বারবার থেমে যায় ইরানের সুশৃঙ্খল প্রতিরোধে।
মিশরের বিপক্ষে আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা রোমেলু লুকাকুকে এবার শুরু থেকেই খেলান কোচ রুডি গার্সিয়া। তবে পুরো ম্যাচে তিনি তেমন কার্যকর হতে পারেননি। প্রথমার্ধে তার একটি হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
খেলার ধারা অনেকটা বেলজিয়ামের পক্ষে থাকলেও প্রথমার্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক সুযোগগুলো তৈরি করে ইরান। এক পর্যায়ে হোসেইন কানানির নিচু শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন কোর্তোয়া।
এর কিছুক্ষণ পর তারেমির বাতিল হওয়া গোল ইরান সমর্থকদের হতাশ করলেও দলটির আত্মবিশ্বাস কমেনি। বিরতির পরও তারা সমানতালে লড়াই চালিয়ে যায়। একবার তারেমির কোণাকুণি শট ঠেকিয়ে বেলজিয়ামকে বিপদমুক্ত করেন কোর্তোয়া।
ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর একসঙ্গে তিন পরিবর্তন এনে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন গার্সিয়া। সেই সময় ডি ব্রুইনার তৈরি করা সুযোগ থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের শট ইরানের গোলরক্ষক দারুণভাবে প্রতিহত করেন। ফিরতি বল থেকেও সুবিধা নিতে পারেননি হান্স ভানাকেন।
এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ন্যাথান এনগয় নিজের গোলরক্ষকের দিকে দুর্বল পাস দিলে বলের দিকে ছুটে যান তারেমি। বিপদ ঠেকাতে গিয়ে হাত দিয়ে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন এনগয়। সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠের বাইরে পাঠান রেফারি।
দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর শেষ সময়টা রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল বেলজিয়াম। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

বেলজিয়াম, ইরান, বিশ্বকাপ ফুটবল, গোলশূন্য ড্র, গ্রুপ পর্ব।

 


এ জাতীয় আরো খবর