ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাতে কোনো স্পষ্ট বিজয়ী না থাকলেও, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের বিশ্লেষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরাজিত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল কার্যত প্রান্তিক অবস্থানে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া নেতানিয়াহুর কৌশল বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস এবং দ্রুত সামরিক সাফল্যের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে এসব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ইরানের শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রয়েছে এবং সামরিক কাঠামোও পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যুদ্ধের শেষ দিকে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন নিজস্ব সিদ্ধান্তে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়। এতে তেল আবিবের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা ইসরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে।
এ প্রসঙ্গে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, দেশের ইতিহাসে এমন কূটনৈতিক ব্যর্থতা আগে দেখা যায়নি। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ইসরায়েলের অনুপস্থিতি বড় ধরনের সংকেত বহন করে। তিনি এটিকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
একইভাবে বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান এই পরিস্থিতিকে কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেশটির অভ্যন্তরীণ গণমাধ্যমগুলোও যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক অভিযানে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় নেতানিয়াহু এখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। এদিকে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সেখানে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।
কী-ওয়ার্ড: নেতানিয়াহু চাপ, কূটনৈতিক ব্যর্থতা, যুদ্ধবিরতি