আজ কোনো ফুলের তোড়া নয়,
কোনো আনুষ্ঠানিক মঞ্চের করতালি নয়-
আজ দরকার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজেকে নতুন করে চেনার সাহস।
নারী মানে শুধু সম্পর্কের পরিচয় নয়,
কারও মেয়ে, কারও স্ত্রী, কারও মা-
নারী নিজেই একটি সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব,
নিজের অক্ষরেখায় ঘূর্ণায়মান এক স্বাধীন গ্রহ।
ভোরের আলো ফোটার আগেই
যে শহর জেগে ওঠে তার পায়ের শব্দে,
রান্নাঘরের ধোঁয়া পেরিয়ে
অফিসের ফাইল, হাসপাতালের ওয়ার্ড,
শিক্ষাঙ্গনের ব্ল্যাকবোর্ড,
মাঠের ধুলো, কারখানার শিফট-
সবখানে তার উপস্থিতি,
অদৃশ্য অথচ অপরিহার্য।
কখনও সে বাসের ভিড়ে
কাঁধে ব্যাগ, মনে অনন্ত হিসাব;
কখনও সে কোর্টরুমে দাঁড়িয়ে
আইনের ভাষায় অন্যায়ের জবাব দেয়;
কখনও সে ক্যামেরার সামনে সত্য বলে,
কখনও আবার নীরব থেকে
অশ্রুকে গোপন করে শক্তির মতো।
এই সময় সহজ নয়-
ডিজিটাল পর্দার আড়ালে
নতুন রকমের অবমাননা,
কর্মক্ষেত্রে অদৃশ্য দেয়াল,
ঘরে ফেরার পথে শঙ্কা।
তবু সে থামে না।
কারণ নারী জানে,
তার স্বপ্ন কোনো দয়া নয়,
তার অধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়-
এগুলো জন্মগত,
রক্তের ভেতর লেখা এক অবিনাশী ঘোষণা।
সে প্রতিবাদ করে,
কিন্তু ঘৃণায় নয়-
সে বদলে দেয় ভাষা,
কঠোরতা ভেঙে তৈরি করে সংলাপ।
সে শিখিয়েছে, শক্তি মানে শুধু মুঠি বাঁধা নয়,
শক্তি মানে কাউকে হাত ধরে ওঠানোও।
একটি মেয়ে যখন প্রথম স্কুলব্যাগ কাঁধে তোলে,
একজন মা যখন সংসারের বাজেট সামলে
নিজের স্বপ্নের জন্য সামান্য টাকা জমায়,
একজন কর্মজীবী নারী যখন বেতন নিয়ে
নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয়-
তখনই পৃথিবী একটু বদলায়।
নারী মানে সহনশীলতা-
কিন্তু তা সহ্য করার বাধ্যবাধকতা নয়;
নারী মানে ভালোবাসা-
কিন্তু তা আত্মবিসর্জনের শর্ত নয়;
নারী মানে শক্তি-
কিন্তু তা প্রমাণের বোঝা নয়।
আজ বিশ্ব নারী দিবসে
আমি কোনো প্রতীকী স্লোগান চাই না,
চাই নিরাপদ পথ,
সমান মজুরি,
সমান সম্মান,
চাই সিদ্ধান্তের টেবিলে সমান চেয়ার।
আমি চাই না নারীকে দেবী বানিয়ে
মানবিক অধিকার থেকে দূরে সরানো হোক।
আমি চাই তাকে মানুষ হিসেবে দেখা হোক-
ভুল করবে, শিখবে,
হাসবে, ভাঙবে,
আবার দাঁড়াবে।
নারী অর্ধেক আকাশ নয় শুধু-
সে পুরো পৃথিবীর ভারসাম্য।
তার কণ্ঠ থেমে গেলে
সময়ের ঘড়ি কাঁপতে থাকে।
তাই আজকের দিন
উৎসবের চেয়ে বেশি অঙ্গীকারের-
যে সমাজে মেয়েশিশু জন্ম নিলে
আকাশের রং বদলায় না,
বরং আলো আরও বেড়ে যায়।
আজকের কবিতা কোনো সমাপ্তি নয়-
এ এক চলমান ঘোষণা:
নারী এগোচ্ছে,
পিছনে ফেলে শতাব্দীর ভয়,
ভেঙে দিচ্ছে অসমতার শেকল,
লিখছে নতুন ইতিহাস-
নিজের নামে,
নিজের ভাষায়,
নিজের স্বাক্ষরে।
শুভ বিশ্ব নারী দিবস।