মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনে সরব হয়েছে ইউরোপের তিন প্রভাবশালী দেশ- যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স।
রোববার ২ মার্চ এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ তিনটি জানায়, ইরানের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা এবং মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত। ইউরোপীয় এই জোট, যা ই৩ নামে পরিচিত, বলেছে-ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যারা সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে জড়িত নয়, তাদের ওপর নির্বিচার হামলা উদ্বেগজনক। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা মোকাবিলায় সরাসরি ও আনুপাতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পিছু হটার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টা হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একে বৃহৎ পরিসরের অভিযান বলে দাবি করেছে। রিয়াদ, দুবাই, আবু ধাবি, দোহা ও মানামাসহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েলি উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বেইত শেমেশ শহরে ইরানি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সংঘাতকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিজেদের জনগণকে রক্ষায় ইরান আত্মরক্ষার সব অধিকার প্রয়োগ করবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় শক্তিগুলোর এই সরাসরি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করলেও পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।
কী-ওয়ার্ডস: ই৩ জোট, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট