শনিবার, মে ২, ২০২৬

নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ‘চমক’ মন্ত্রিসভা,১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০২-১৫ ১২:০৬:১৩
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলীয় সূত্র বলছে, দ্রুতগতিতে সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে এবং আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। এবারকার মন্ত্রিসভা গঠনে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, সারা দেশে যেভাবে মনোনয়ন বণ্টনে ভারসাম্য রাখা হয়েছে, মন্ত্রিসভাতেও তার প্রতিফলন থাকবে।
বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। একইসঙ্গে ভৌগোলিক ভারসাম্য ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি কয়েকজন তরুণ মুখও বড় দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আভাস মিলেছে।
দলীয় আলোচনায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যাদের নাম ঘুরছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে বলেও জানা গেছে। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও রেজা কিবরিয়ার নামও আলোচনায় আছে। কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদের দুজন নেতার নাম নিয়েও আলোচনা চলছে।
নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের কয়েকজন নারী সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত।
এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ মুখ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
জোটসঙ্গীদের মধ্যেও মন্ত্রিত্ব নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর।
এছাড়া আলোচনায় আছেন লুৎফুজ্জামান বাবর, আসাদুজ্জামান, ওসমান ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, আলী আজগর লবি, নিতাই রায় চৌধুরী, এহছানুল হক মিলন, বরকত উল্লাহ বুলু, জয়নাল আবদিন ফারুক, কায়সার কামাল ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
দলীয় অভ্যন্তরে টেকনোক্র্যাট কোটায়ও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ড. মাহাদী আমিনের নামও ঘুরছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর নামও টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে তুলনামূলক কম বিতর্কিত ছিলেন—এমন কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতাকেও নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। সব মিলিয়ে ‘চমক’ রেখে ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিনিধিত্বশীল মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে বিএনপি নেতৃত্ব।

 


এ জাতীয় আরো খবর