আমারও ইচ্ছে ছিল-
ভোরের আলোয় কারো নরম স্পর্শে
দিন শুরু হবে,
মৃত বুকে জেগে উঠবে নিশ্চিন্ততার ছোট্ট কম্পন।
ভাবতাম, একটা মানুষ থাকবে
যে ব্যস্ত শহরের ভিড়ে
আমাকেই খুঁজে নেবে বারবার,
যার চোখে আমার জন্যই থাকবে
এক টুকরো নরম পৃথিবী।
চেয়েছিলাম কপালে রাখা একটি নীরব চুমু,
শোবার ঘরের অন্ধকারে
চুলে হাত বুলিয়ে দেওয়া
একটি ছোট্ট যত্ন,
যা কোনো শব্দ ছাড়া বলবে-
“তুমি একা নও।”
অচেতন অস্থিরতায় বলেছিলাম কখনও,
“ভালো লাগছে না…”
চেয়েছিলাম কেউ এগিয়ে এসে
আমার ক্লান্তিকে নিজের হাতে মাপবে,
ঠিক যেমন মা শিশুর জ্বর দেখে।
স্বপ্ন ছিল-
একদিনের ছুটিতে
আমার হাসিটা হবে কারো গন্তব্য,
রিক্সার বাতাসে ভেসে যাবে
দু’জনের নীরব ঘনিষ্ঠতা।
ভেবেছিলাম কেউ আমার শাড়ির কুচি ঠিক করে দিয়ে
বলবে-
“চল, আজ একটু নিজেদের মতো বাঁচি।”
সবই ছিল-
কিন্তু সবই রইল আমারই একতরফা আকাশে।
জীবন জুড়ে যত্ন চেয়েছিলাম,
মেলে ধরেছিলাম বিশ্বাসের নরম দুই হাত,
আর শেষে দাঁড়িয়ে বুঝেছি-
যে ভালোবাসা চাইতে হয়,
সেটা কখনোই আপন হয় না।
আজ আমি জানি-
আমি অপূর্ণ নই,
অপূরণেই আমার সত্য লুকিয়ে আছে।
আমার ডানা ছোট নয়-
ডানা ভাঙার সময়টুকুই ছিল দীর্ঘ।
এখন বুঝি-
কেউ আমাকে বাঁচাতে না আসা
দুঃখের নয়;
বরং আমার নিজের কাছে ফিরতে
কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি-
সত্যিকার মুক্তি কখনও কখনও
অপূর্ণতার হাত ধরেই আসে।