সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে সরকারপন্থি আলাওয়াইটদের বিক্ষোভ নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। মঙ্গলবার একাধিক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ঘরবাড়ি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক অবনতি ও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগিত বৈষম্যের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র শাফাক নিউজকে জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। যারা হামলা ও ভাঙচুরে যুক্ত ছিল তাদের শনাক্ত করে আটক করতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, লাতাকিয়ার আল-জুমহুরিয়া সড়ক এলাকায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময় তিশরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসসংলগ্ন আল-জিরা এলাকায়ও আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেন্ট আল-শাওয়িশ অঞ্চলেও গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পর পুরো লাতাকিয়া শহরজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আলাওয়াইট বিক্ষোভই এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে চলা জীবনযাত্রার অবনতি, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট, এবং তাদের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগিত নিপীড়নের প্রতিবাদে বিভিন্ন এলাকায় আলাওয়াইট জনগোষ্ঠী প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখাচ্ছে। এই বিক্ষোভকে দমন করতেই সরকারপন্থি বাহিনী কঠোর অবস্থানে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে হামা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকাতেও। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় সেনা সমর্থন নিয়ে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকটে নতুন করে এই সহিংসতা আরও অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কীওয়ার্ডঃ সিরিয়া সহিংসতা,লাতাকিয়া বিস্ফোরণ,আলাওয়াইট বিক্ষোভ