শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

গাজা সিটিতে ইসরায়েলি অভিযান, মানবিক বিপর্যয়ে নতুন করে ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৮-২১ ০৯:৫৬:২২
ছবি: সংগৃহীত।

গাজার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র গাজা সিটি দখলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনারা। সেখানে এখনো প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভয়াবহ মানবিক সংকটে আটকে রয়েছেন। 
ইসরায়েলি হামলায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮১ ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন ছিলেন ত্রাণ সংগ্রহের চেষ্টা করা মানুষ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ আগস্ট ভোর থেকে শুরু হওয়া বিমান ও স্থল হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে খাদ্য সংকট ও অনাহারে মারা গেছেন আরও তিনজন। 
ফলে গাজায় অনাহার-সম্পর্কিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৯ জনে, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু।
দক্ষিণ গাজার একটি তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের ওপর হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন। এছাড়া একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে গুলিবর্ষণে প্রাণ হারান ফিলিস্তিনি জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক তারকা মোহাম্মদ শালানসহ আরও কয়েকজন। 
শুধু বুধবারেই অন্তত ৩০ জন ত্রাণ প্রত্যাশী ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজায় খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ চলছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, 
“এটি শুধু ক্ষুধা নয়, এটি প্রকৃত অনাহার।” সংস্থার মতে, অপুষ্টি শরীরে স্থায়ী ক্ষতি করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং সাধারণ রোগকেও প্রাণঘাতী করে তুলছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজা সিটিতে প্রতি তিন শিশুর একজন এখন অপুষ্টিতে ভুগছে। সংস্থাটি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। 
মানবাধিকার সংগঠন গিশা অভিযোগ করেছে, শুরু থেকেই ইসরায়েল ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়ে অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, জ্বালানি ঘাটতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, অনেক গাড়ি মাঝপথে থেমে যাচ্ছে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় অথবা যন্ত্রাংশের অভাবে। 
ইসরায়েলের গণবিধ্বংসী হামলার হুমকির মধ্যে তারা ভয়াবহ মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

কীওয়ার্ডস:
গাজা সিটি হামলা, ইসরায়েলি অভিযান গাজা, ফিলিস্তিন মানবিক সংকট, ডব্লিউএফপি সতর্কবার্তা, গাজায় যুদ্ধবিরতি দাবি


এ জাতীয় আরো খবর