শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

ডেঙ্গুর হটস্পট চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগি ৩ হাজার ছুঁইছুঁই

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-১০-২২ ১৯:২০:২৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অক্টোবরেও থেমে নেই ডেঙ্গুর ভয়াবহ  থাবা। গত আগষ্ট থেকে ডেঙ্গু সংক্রমন বৃদ্ধির পর সেই ধারা এখনও অব্যহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন, পৌরসভা থেকে  শুরু করে সরকারি-বেসরকারী পর্যায়ে ডেঙ্গু সংক্রমন কমাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মসূচী লাগাতার চলমান থাকলেও খুব একটা বাগে আনা যায় নি পরিস্থিতি। জেলার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বিপুল সংখ্যক ডেঙ্গু রোগি। তবে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগিদের পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি, বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেয়া বা যারা  নিজস্ব উদ্যোগে রাজশাহী বা ঢাকায় চিকিৎসা  নিচ্ছেন  বা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের কোন সঠিক পরিসংখ্যান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট নেই। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে (যেমন-জেলা চেম্বার) এ সকল রোগির সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সাথে সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু সংখ্যার বিস্তর ফারাক রয়েছে।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২২অক্টোবর) দুপুরে স্ব্াস্থ্য সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ  জেলা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জনসাধারনের ডেঙ্গু সচেতণতা বাড়াতে এবং প্রজননস্থল ধংসে কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশে ডেঙ্গুর অন্যতম হটস্পট। পরিদর্শনকালে তিনি ডেঙ্গু রোগিদের সাথে কথা বলেন এবং হাসপাতালের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট সহ বিভিন্ন সমস্যা দূও করতে কাজ করার কথা জানান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আরও কাজ করা হবে বলে জানান।
এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) পর্যন্ত চলতি বছর জেলার ৫টি সরকারি হাসপাতালে  ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৯৭৩ জন ডেঙ্গু রোগি। এর  মধ্যে মারা গেছেন ৩ জন।  বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১২৮ জন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৪১ জন।
অপরদিকে ২৫০ শয়্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলায়  যত সংখ্যক ডেঙ্গু রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাঁদের বড় অংশই এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১০১ জন। বৃহস্পতিবার নতুন করে ৩২ রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম সাহাবুদ্দীন বলেন, ডেঙ্গুর আক্রমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় সর্বোচ্চ। বিভিন্ন পর্যায়ে এর সংক্রমন কমাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। লার্ভা ধংসে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন করা হচ্ছে।  প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুও সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীতে জেলার  যে সব রোগি মারা গেছেন সেই তথ্য বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরে রয়েছে।
জেলা হাসপাতালের ত্তবাবধায়ক ডা. জমির মো.হাসিবুস সাত্তার বলেন, শয্যা ও চিকিৎসক সংকটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিপর্যস্ত। ডায়ালাইসিস ইউনিট ও আইসিইউ চালু করা গেলে ডেঙ্গু সহ সকল রোগিদের অধিকতর সেবাদান সম্ভব হত। ডেঙ্গু সংক্রমন পরিস্থিতি বছরের এই সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 


এ জাতীয় আরো খবর