ঢাকের শেষ বাদ্য, ভক্তদের প্রার্থনা আর বিদায়ের আবেগে বুধবার শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সন্ধ্যা থেকে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা।
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। পরে দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা।
রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা পলাশীর মোড়ে সমবেত হন। সেখান থেকে শত শত ট্রাকের শোভাযাত্রা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এলাকা হয়ে শহীদ মিনার, হাইকোর্ট, পুলিশ সদর দপ্তর, গোলাপ শাহ মাজার ও কোর্ট এলাকা অতিক্রম করে সদরঘাটে পৌঁছায়। পথে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
সন্ধ্যায় ঢাকের বাদ্য আর বিদায়ের বিষণ্ণ আবহে একে একে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। একই সময়ে তুরাগ নদীতেও চলে বিসর্জনের আয়োজন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কে পুলিশ, নদীতে নৌপুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
তবে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। সেখানে দেবীর ফুল, বেলপাতা ও ঘট বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রামকৃষ্ণ মিশনে সন্ধ্যারতি শেষে মিশনের পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। পরে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ ও মিষ্টিমুখ করেন।
গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল পাঁচ দিনের এই উৎসব। পূজার দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনায় অংশ নেন ভক্তরা। ধর্মীয় বিশ্বাসে বিজয়া দশমী অশুভ প্রবৃত্তি ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা বহন করে। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী কৈলাসে ফিরে যান, আবারও আগামী শরতে তাঁর আগমনের অপেক্ষায় থাকবেন ভক্তরা।
এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মণ্ডপের অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনসহ নানা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দুর্গাপূজার ছুটি নির্বাহী আদেশে বাড়িয়ে তিন দিন করায় সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পান অনেক মানুষ।
ধর্মীয় আয়োজনের গণ্ডি ছাড়িয়ে দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও প্রতীক। বিদায়ের বিষাদ পেরিয়ে তাই ভক্তদের মনে এখন আগামী শরতে দেবীর পুনরাগমনের প্রত্যাশা।
দুর্গাপূজা, প্রতিমা বিসর্জন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি