২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ প্রমাণে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। সোমবার (৪ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের জন্য মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি গ্র্যান্ড জুরিতে প্রসিকিউটর নিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাব্য অভিযোগ উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে এ তদন্ত শুরু হয়েছে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ২০১৬ সালের ‘রাশিয়াগেট’ কেলেঙ্কারি ছিল ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তার ভাষায়, এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য ছিল তার প্রচারণাকে দুর্বল করা এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করা।
বর্তমান জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড গত মাসে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে ওবামা প্রশাসন বহু বছর ধরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গ্যাবার্ড লেখেন, “মার্কিন ইতিহাসে গোয়েন্দা সংস্থার সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিকীকরণের প্রমাণ মিলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে প্রকাশিত আমার রিপোর্টে ওবামা প্রশাসনের অপব্যবহার স্পষ্ট।”
গ্যাবার্ডের রিপোর্ট প্রকাশের পরপরই বিচার বিভাগ একটি স্ট্রাইক ফোর্স গঠন করে, যা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্বে কাজ করবে।
অন্যদিকে, বারাক ওবামার মুখপাত্র এই অভিযোগকে “অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ হাস্যকর এবং জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার দুর্বল প্রচেষ্টা।”
ডেমোক্র্যাট নেতারাও গ্যাবার্ডের রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, রাশিয়া ট্রাম্পের পক্ষে প্রভাব ফেলতে চেয়েছিল বটে, তবে ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটি দাবি করেছে, ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।
কীওয়ার্ডস: ওবামা প্রশাসন তদন্ত, রাশিয়াগেট ষড়যন্ত্র, ট্রাম্প বনাম ওবামা, তুলসি গ্যাবার্ড রিপোর্ট, মার্কিন বিচার বিভাগ