সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

টানা ড্রোন হামলায় অচল মস্কোর আকাশপথ: ইউক্রেনের আক্রমণে ১৪০ ফ্লাইট বাতিল,ব্যাহত বাণিজ্যিক বিমান চলাচল

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-২১ ০৩:০৩:১২
ছবি সংগৃহিত

টানা ড্রোন হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর আকাশপথ। ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম একাধিকবার স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বাতিল হয়েছে অন্তত ১৪০টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট, পরিবর্তন করা হয়েছে শতাধিক ফ্লাইটের গন্তব্য।
রোববার (২০ জুলাই) দিনভর চলা এই ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে রুশ কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধুমাত্র মস্কোর আকাশেই ২৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। সার্বিকভাবে সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করেছে মোট ২৩০টির বেশি ড্রোন।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, মস্কোর বৃহৎ তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-শেরেমেতিয়েভো, ভনুকোভো এবং দোমোদেদোভো-এ ড্রোন হুমকির কারণে একাধিকবার উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি অন্তত ১৩০টির বেশি ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করে অন্য শহরে অবতরণের ব্যবস্থা করা হয়।
রুশ পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ATOR জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মস্কোর বিমানবন্দরগুলোতে ১০ বার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটনে।
এই হামলার কারণে শুধু রাজধানী মস্কো নয়, আশপাশের অঞ্চলও নিরাপত্তা সংকটে পড়ে। মস্কোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কালুগা অঞ্চলেও ইউক্রেনের ড্রোন প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে শনিবার সকাল থেকে অন্তত ৪৫টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ড্রোন হুমকির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় কালুগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও।
অন্যদিকে, পাল্টা হামলায় রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলকে লক্ষ্য করে রাতভর বিমান হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার এই ধারায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও একটি নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির আধিপত্য এখন আকাশপথের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে বেসামরিক অবকাঠামো এবং পরিবহন ব্যবস্থা সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। তবে যাত্রীসাধারণ ও এয়ারলাইন ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 


এ জাতীয় আরো খবর