মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

শিরাজের রাস্তায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: ইরানের শক্তি ও নেতানিয়াহুর আত্মসমর্পণ

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-০৫ ০১:১৯:২৯
ছবি সংগৃহিত

ইরানের শিরাজ শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোর একটিতে এখন চোখে পড়ছে একটি বিরল ও ঐতিহাসিক দৃশ্য। এক বিশাল বিলবোর্ডে ফুটে উঠেছে প্রাচীন পারস্য সম্রাট শাপুর প্রথমের গৌরবময় বিজয়গাথা,যা আধুনিক রাজনীতির এক করুণ বাস্তবতার আকার ধারণ করেছে।
বিলবোর্ডে দেখা যায়, ঘোড়ায় বসা শাপুর প্রথমের সামনে হাঁটু গেড়ে মাথা নত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দেখা যাচ্ছে নেতানিয়াহুর পাশে, যা ইরানের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের এক প্রকাশ।
অতীতের সেই দৃশ্যটির নকশা আজ থেকে প্রায় ১৭০০ বছর আগে খোদাই করা হয়েছিল ইরানের ফার্স প্রদেশের ‘নকশ-ই রোস্তম’ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে।
৩য় শতাব্দীতে পারস্য সম্রাট শাপুর প্রথম রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে পরাজিত ও বন্দি করেন। রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে এটি ছিল অনন্য-কোনো সম্রাট প্রথমবার জীবিত অবস্থায় শত্রুর হাতে বন্দি হয়েছিলেন।
বিভিন্ন প্রাচীন সূত্র অনুসারে, শাপুর প্রথম তার ঘোড়ায় উঠার জন্য ভ্যালেরিয়ানকে পিঠের নিচে পা দিয়ে দাঁড় করিয়েছিলেন-যা বিজয়ের সর্বোচ্চ অবমাননা প্রকাশ করেছিল।
গত ১৩ থেকে ২৪ জুন ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে এই বিলবোর্ডটি তুলে ধরা হয়।
ইরানের জনগণ এটিকে শুধু অতীতের গৌরবের স্মৃতি নয়, বরং বর্তমান সময়ের বিজয়ের প্রতীক হিসেবেও দেখছে।
শিরাজের এই পোস্টার আজকের ইরানি রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নেতানিয়াহুর 'অসহায় আত্মসমর্পণ' এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছে।
ইরানের ফার্সবাসীর কাছে এই বিলবোর্ড ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক কূটনৈতিক যুদ্ধে তাদের 'পরাজিত' অবস্থার এক নাটকীয় চিত্রায়ন।
‘যুগে যুগে সাহসীর গর্ব, নত করেছে অহংকারীদের মাথা’-এই শ্লোগান শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, বরং ইরানের আজকের আত্মবিশ্বাসের ভাষ্য।

 

#ইরান #শিরাজ #শাপুর_প্রথম #নেতানিয়াহু #ইসরাইল_ইরান_সংঘর্ষ #পারস্য_ইতিহাস #নকশই_রোস্তম #রাজনৈতিক_বিলবোর্ড


এ জাতীয় আরো খবর