রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

যুক্তরাজ্যে আরএএফ ঘাঁটিতে ফিলিস্তিনপন্থীদের হামলা:'প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের তীব্র প্রতিবাদ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-২০ ১৯:৫০:৪৪
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা-২০ জুন ২০২৫
ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ যখন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সামরিক ঘাঁটিতে সাহসী এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা সরাসরি Royal Air Force (RAF) ঘাঁটিতে প্রবেশ করে দুটি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। লক্ষ্য-যুক্তরাজ্যের গাজা গণহত্যায় পরোক্ষ অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
ঘটনাটি ঘটেছে অক্সফোর্ডশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ব্রাইজ নর্টন ঘাঁটিতে, যা যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নামের একটি ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন দাবি করেছে, তাদের দুজন সদস্য এই ঘাঁটিতে ঢুকে 'ভয়েজার' মডেলের দুটি সামরিক বিমানের ইঞ্জিনে রঙ স্প্রে ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ক্ষতিসাধন করেছেন।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা ইঞ্জিনে পুনর্ব্যবহৃত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে লাল রঙ স্প্রে করে। প্রতীকীভাবে এই লাল রঙকে ‘ফিলিস্তিনিদের রক্তের প্রতীক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে সংগঠনটি। শুধু তাই নয়, রানওয়ের ওপরও লাল রঙ ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং একটি ফিলিস্তিনি পতাকা সেখানে রেখে যান হামলাকারীরা।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়, দুই আন্দোলনকারী ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে ঘাঁটির ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং সাবলীলভাবে বিমানে আক্রমণ চালান। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, হামলার পর তারা নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘাঁটি ত্যাগ করতেও সক্ষম হন, এমনটাই দাবি করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন দাবি করে, “যুক্তরাজ্য সরকার যদিও প্রকাশ্যে ইসরাইলের নিন্দা করে, বাস্তবে তারা সামরিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। গাজার আকাশে নজরদারি, জ্বালানি সরবরাহ এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে সহায়তা দিয়ে তারা গণহত্যায় সক্রিয়ভাবে জড়িত।”
তারা আরও দাবি করেছে, গোপনে অস্ত্র ও প্রযুক্তি পাঠানো হচ্ছে ইসরায়েলের কাছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ আরও উসকে দিচ্ছে।
এ ঘটনার পরপরই যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি এক বিবৃতিতে জানান, “ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। দেশের প্রতিটি সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হবে।”
তবে হামলাকারীরা কীভাবে এত কড়া নিরাপত্তা পেরিয়ে বিমানে আঘাত হানলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশটির প্রতিরক্ষা মহলে বিরাট সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্য সরকার এখন একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সংকট সামলাতে চায়, অন্যদিকে ঘরের ভেতর মানবাধিকার সংবেদনশীল নাগরিকদের ক্ষোভও নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এর আগেও প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ও অন্যান্য সংগঠন ব্রিটিশ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও হামলার মাধ্যমে ইসরাইলের প্রতি সমর্থনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
ব্রিটেনের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জন ম্যাথিউস বিবিসিকে বলেন, “এ ধরনের হামলা শুধু প্রতীকী নয়, সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরও বলেন, “আন্দোলন এখন প্রতীকী জায়গা ছাড়িয়ে সরাসরি স্ট্রাটেজিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে-এটা নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা।”
এ হামলার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো-গাজা পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়,বরং ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তেও রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকার এই ঘটনাকে কেবল নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছে, কিন্তু ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর কাছে এটি একপ্রকার ‘প্রতিরোধের বিজয়’।

হাইলাইটস:
আরএএফ ব্রাইজ নর্টনে প্রবেশ করে দুটি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সদস্যদের লাল রঙে ‘ফিলিস্তিনের রক্তপাত’ প্রতীকী বার্তা
হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ
মানবাধিকারকর্মীদের দাবিতে যুক্তরাজ্যকে ‘গণহত্যার সহযোগী’ আখ্যা


এ জাতীয় আরো খবর