রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

আইনের শাসন ও মানবাধিকারে বিশ্বব্যাপী ঐক্য জরুরি: নিউইয়র্ক সম্মেলনে প্রধান বিচারপতি রেফাত আহমেদ

  • সকালের আলো ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-১১ ১৩:৩৪:১০
ছবি সংগৃহিত

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আয়োজিত বার্ষিক ‘রুল অব ল’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলবে ১০ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “২০২৪ সালের ভবিষ্যতের চুক্তি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশেই স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র টেকসই হয় না। তাই এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিচার বিভাগের রূপান্তরমূলক সংস্কারে জাতিসংঘের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন:
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লবে অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনরোষ যেমন প্রকট হয়ে ওঠে, তেমনি একটি নতুন ন্যায়ের সমাজ গঠনের দাবি উঠে।
এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি যে বিচারিক সংস্কার রোডম্যাপ হাতে নিয়েছেন, তা দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
“আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ৪২ লাখ মামলার জট, বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থার সংকট এবং অতীতের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের চাপের মুখেও পিছু হটিনি,” বলেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি জানান, তার নেতৃত্বে গৃহীত বিচার বিভাগীয় সংস্কার রোডম্যাপে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল রূপান্তর, জনঅংশগ্রহণভিত্তিক প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও সুইডেন সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অংশীদার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ইউএনডিপি আয়োজিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ট্রানজিশনাল জাস্টিস বিষয়ক আলোচনায় আমার এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, একটি স্বৈরতান্ত্রিক বা অন্যায্য শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিচার বিভাগের সংস্কারই প্রথম ও প্রধান শর্ত।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “সংবিধান, বৈধতা এবং মানবাধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগকে স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণ থেকে আগে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। এরপরই তা ন্যায়বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য একটি কার্যকর এবং বিশ্বাসযোগ্য আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে পারবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যখন আদালতে ন্যায়বিচার অনুপস্থিত থাকে, তখন তা রাস্তায় প্রতিবাদ হয়ে ফিরে আসে। এই বাস্তবতা আমাদের সবসময় স্মরণে রাখা দরকার।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, “বাংলাদেশের চলমান বিচার সংস্কার প্রক্রিয়া একদিন এক দৃঢ় ভবিষ্যতের পথে দেশের জনগণের জন্য আশার বাতিঘর হয়ে উঠবে।”
ইউএনডিপির এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, মানবাধিকার কর্মী এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কৌশল ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর