আমি কাব্য প্রেমিক হতে চেয়েছিলাম,
যখনই সময় পেতাম রবীন্দ্রনাথ, নজরুল,
শামসুর রাহমান জীবনানন্দ নিয়ে বসে যেতাম।
আমি বাচিক শিল্পী নই, তবুও অবসরে আবৃতি করতাম
কোন দ্বিধা ছিল না যেহেতু বক্তা এবং শ্রোতা আমি নিজেই।
হারিয়ে যেতাম কবিতার রাজ্যে জারুল,
শিরিশ বনে কখনো গুবাক তরুর সারিতে।
কৃষাণীর শুষ্ক মুখ দেখলে মনে হতো দুই বিঘা জমির কথা,
একসময় মনের অজান্তে খেরোখাতায় এঁকেছি শব্দের মালা।
তারপর একদিন বদলে গেল চলার পথ --
যে পথে পা বাড়ালাম যে পথ ছিল বড়ো দুর্গম,
এলোমেলো বাতাসে উড়ে গেল খেরোখাতা,
বিছিন্ন হয়ে গেলাম কাব্যজগত থেকে।
পরিচিত জগৎ হঠাৎ করে অপরিচিত হয়ে গেল,
আমার একাকীত্বের খবর কেউ জানতে চাইলো না।
সময় আমাকে সরিয়ে দিল আমার একান্ত ভুবন থেকে,
শুকিয়ে গেল হাসির গ্রন্থি।
গভীর রাতে জানালায় দাঁড়িয়ে আর আকাশ দেখা হয় না,
হয় না দেখা শ্রাবণের ছায় রঙা পাখির পালকে ঢাকা মেঘ।
অনুভূতিগুলো কেমন নিস্তেজ হয়ে গেল,
নিজের কাছে নিজেকে বড়ো অচেনা লাগে।
আজ জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নতুন কবিকুলের কবিতা পড়ি
হাসি,কাঁদি ভালো লাগাটুকু উজাড় করে দেয় তোমাদের করকমলে।
কাঁপা কাঁপা হাতে আর কলম ধরা হয় না,
দৃষ্টিহীনতায় বইয়ের পাতা অস্বচ্ছ চোখে পড়ে না সযত্নে লালিত অক্ষরগুলো।
তাই নিজেকে গুটিয়ে নিলাম আপন গণ্ডিতে,
হলো না আর আমার কাব্যপ্রেমিক হওয়া।