রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

চাল না কেনার মন্তব্যে তোপের মুখে জাপানের কৃষিমন্ত্রী,শেষমেশ পদত্যাগ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-২১ ২২:৩১:২৬
ছবি সংগৃহিত

জাপানে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী তাকু এতো। “আমি কখনো চাল কিনিনি”—এমন মন্তব্য করে জনমনে ক্ষোভের জন্ম দেন তিনি, যার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জাপানে চলমান উদ্বেগের মধ্যে এতো’র বক্তব্য দেশটির সাধারণ মানুষকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। ভোটের আগে মূল্যস্ফীতির চাপ সরকারকে চাপে ফেলেছে, আর এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রীর উদাসীন বক্তব্য জনরোষকে আরও উসকে দেয়।
জাপানের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে চালের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে জরুরি মজুদ থেকে তিন লাখ টনের বেশি চাল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি বাজারে।
এই পটভূমিতে রোববার এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমি কখনো নিজে চাল কিনিনি। কারণ আমার সমর্থকেরা এত বেশি চাল দান করেন যে, তা বিক্রি করেও আমি পারি।” মন্ত্রীর এই কথায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা, এবং রাজপথেও তার পদত্যাগের দাবিতে আওয়াজ ওঠে।
চাপে পড়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে 'অনুপযুক্ত' বলে মন্তব্য করে পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তাকু এতো। তিনি বলেন, “চালের মূল্য নিয়ে যখন দেশের মানুষ কষ্টে আছে, তখন আমি কি নেতৃত্বে থাকার যোগ্য—এই প্রশ্নটা নিজেকেই করেছি। আমি বুঝতে পেরেছি, আমি এই সংকট মোকাবেলায় যথেষ্ট নই। তাই পদত্যাগই সঠিক সিদ্ধান্ত।”
পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “আমি আমার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী ইশিবার কাছে জমা দিয়েছি। আমি দুঃখিত এবং জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।”
জাপানে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের জনপ্রিয়তা হুমকির মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য ক্ষমতাসীন দলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর