সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ায় বারুদের গন্ধ: কাশ্মীর উত্তেজনার মাঝে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পাকিস্তান

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-০৩ ১৮:২৭:১৯
ছবি সংগৃহিত

কাশ্মীরের ছায়াতলে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। সীমান্ত পেরিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝে এবার নিজের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে মাঠে নামল পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা শনিবার (৩ মে) সফলভাবে 'আবদালি' নামক একটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের প্রশিক্ষণমূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে।
৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার এই অস্ত্র সিস্টেমটি মূলত একটি স্বল্প-মধ্যম দূরত্বের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, "এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সৈন্যদের বাস্তব যুদ্ধ-প্রস্তুতি যাচাই এবং উন্নত ন্যাভিগেশন ও কৌশলগত কার্যক্ষমতা পরিমাপ করা হয়েছে।"

কাশ্মীর-আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু
এই সামরিক প্রদর্শনের পেছনে রয়েছে উপত্যকাভিত্তিক একটি সাম্প্রতিক হামলা, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৬ জন নিরীহ বেসামরিক মানুষ। ভারত এর জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। দিল্লির দাবি, হামলাকারীরা পেয়েছে ‘সীমান্তপারের সহায়তা’। যদিও ইসলামাবাদ শুরু থেকেই এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

চোখ রাঙানি ও সামরিক প্রস্তুতি
দুই দেশের মধ্যে বাগযুদ্ধের পাশাপাশি চলেছে বাস্তব যুদ্ধ-প্রস্তুতিও। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সশস্ত্র বাহিনীকে দিয়েছেন "সম্পূর্ণ অভিযানের স্বাধীনতা"। তার এই বার্তা স্পষ্ট-প্রতিক্রিয়া আসবে, প্রয়োজনে সীমান্তের ওপারেও।
অন্যদিকে পাকিস্তান এক বিবৃতিতে সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছে, ভারত "অচিরেই হামলা চালাতে পারে", এবং সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কাশ্মীর সীমান্তে-বিশেষ করে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) বরাবর-গত কয়েক রাত ধরেই চলছে গুলিবিনিময়। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অন্তত নয় রাত টানা গোলাগুলি হয়েছে, যেখানে ক্ষয়ক্ষতি দুই পক্ষে থাকলেও বেসামরিকদের হতাহতের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে এমন সামরিক উত্তেজনা শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, গোটা বিশ্বে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযান কিংবা ২০০১ সালের পার্লামেন্ট হামলার পরবর্তী সময়ের মতোই এখনকার উত্তেজনাও দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের ‘আবদালি’ উৎক্ষেপণ শুধু সামরিক মহড়ার অংশ নয়, এটি একটি কৌশলগত বার্তা—যা সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত নীতির প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে।

উত্তেজনার অদৃশ্য রেখা কোথায়?
কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নতুন কিছু নয়, কিন্তু প্রতিবারই এই উত্তাপ এক ধাপ করে নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। এবারের প্রেক্ষাপটে শুধু সামরিক পরিসর নয়, কূটনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রাও আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
দুই দেশের জনগণ চায় শান্তি, কিন্তু রাষ্ট্রের খেলায় যুদ্ধের শঙ্কা যেন কখনও পিছু ছাড়ে না। এখন প্রশ্ন একটাই-এই উত্তপ্ত প্রতিযোগিতা কি শান্তির পথে ফিরবে, নাকি আরও একটি সংঘর্ষের ছায়া দক্ষিণ এশিয়াকে গ্রাস করবে?


এ জাতীয় আরো খবর