রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

কাশ্মীর হামলার পর ভারত-পাক উত্তেজনা তুঙ্গে,সন্ত্রাসীদের ‘অন্ধকার সময়’ আসছে-হুঁশিয়ার অমিত শাহের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-০১ ২৩:৩৫:২২

কাশ্মীরের পহেলগামে সাম্প্রতিক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ফের তলানিতে ঠেকেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, কড়া সিদ্ধান্ত আর হুমকিতে উপমহাদেশে ফের এক উত্তপ্ত আবহ বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সন্ত্রাসীদের উদ্দেশে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ মে) দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “কাশ্মীরের মাটি রক্তে ভিজিয়েছে যারা, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক সময় এখন অপেক্ষা করছে।”-এমনটাই জানিয়েছে এনডিটিভি।
এই প্রথমবার পহেলগাম হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, “এটা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার-আমরা কাশ্মীরসহ দেশের প্রতিটি ইঞ্চি থেকে সন্ত্রাসের বীজ উপড়ে ফেলব। যারা ভাবছে ২৬ জনকে মেরে তারা পার পাবে, তারা কঠিন ভ্রান্তিতে আছে।"
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভারতের ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত বলেই দেখছেন।
একইসঙ্গে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বিবৃতি দিয়ে জানান, হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিচ্ছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার বিষয়টিও প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “হামলার পরিকল্পক, সহযোগী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পাকিস্তানকে দায়ী করে কূটনৈতিক যুদ্ধ শুরু
ভারত দাবি করেছে, পহেলগাম হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের সরাসরি মদদ রয়েছে। এর জবাবে নয়াদিল্লি একাধিক কঠিন পদক্ষেপ নেয়। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, আকাশসীমা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সময় নেয়নি। ইসলামাবাদ ঘোষণা দিয়েছে, তারা সিমলা চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং পাকিস্তানি আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না কোনো ভারতীয় উড়োজাহাজকে। বন্ধ করা হয়েছে ভারতে পণ্য রপ্তানি ও আমদানিও।

স্মরণে ২০১৯: পুলওয়ামার ছায়া
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার স্মৃতি এখনো তাজা, আর ২২ এপ্রিলের এই পহেলগাম হামলা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক উত্তাপ সীমান্ত উত্তেজনায় পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

উত্তেজনার ছায়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষের আবহে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ শান্তি বজায় রাখতে দুই পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানালেও, ভারত কঠোর অবস্থানেই অনড়। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে দেশটি কোনো আপস করবে না বলেই বার্তা দিচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর