ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেট’-এর প্রধান রোনেন বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুতর মতবিরোধের জেরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রায় ৩৫ বছরের চাকরি জীবনের ইতি টেনে তিনি আগামী ১৫ জুন দায়িত্ব ছাড়ছেন।
শিন বেটের প্রধান হিসেবে রোনেন বার দায়িত্ব পালন করছিলেন দেশের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট-এর খবরে বলা হয়, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সেটি ব্যর্থ হয়। এর ছয় সপ্তাহ পর বার নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
রোনেন বার তার বিবৃতিতে বলেন, “আমি সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। এখন সময় এসেছে দায়িত্ব হস্তান্তরের। আমার স্থলাভিষিক্ত হবেন একজন যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তি-এমনটাই প্রত্যাশা করছি।”
দ্বন্দ্বের পেছনে কী ছিল?
মূল দ্বন্দ্বের সূত্রপাত নেতানিয়াহুর অভিযোগ থেকে। গত ১৬ মার্চ তিনি প্রকাশ্যে বলেন, শিন বেটের প্রধানের ওপর তার আস্থা নেই। তিনি দাবি করেন, সংস্থার অভ্যন্তরে রোনেন বারকে ঘিরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, রোনেন বার পাল্টা অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু তাকে বিক্ষোভকারীদের ওপর নজরদারি চালাতে এবং নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। এসব অনৈতিক নির্দেশ অস্বীকার করার পরই সম্পর্ক আরও খারাপ হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শিন বেটের প্রভাব ও বার-এর ভূমিকা
শিন বেট ইসরাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সংস্থাটি। সেই সময় রোনেন বারের নেতৃত্বে সংস্থাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
পদত্যাগের প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন এক সময় এই পদত্যাগ এলো যখন ইসরাইলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের চাপ এবং গাজায় চলমান অভিযানকে ঘিরে দেশটির গোয়েন্দা তৎপরতা অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।
নতুন প্রধান কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে আগামী ১৫ জুনের আগেই নতুন একজন দায়িত্ব নেবেন বলে জানা গেছে।