সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

পারিবারিক বন্ধন নষ্ট কেন? দায়ী কে?

  • জা হা ঙ্গী র বা বু
  • ২০২৩-০৭-২৬ ১৪:০৬:৪৮

নষ্ট হয়েছি আমি, নষ্ট হয়েছে আমার বিবেক।নেই মানবতা মনুষত্ব্য,হয়েছি স্বার্থের জন্য স্বার্থপর।আজ নয়, হয়তো একাত্তরের স্বাধীনতার পর। একাত্তরে পুর্ববর্তী আগের গল্প গুলু শুধুই ভালোবাসার,আবেগের,মায়ের।দারিদ্রতা থাকলেও ভাতৃত্ব বন্ধনে মায়ার কমতি ছিলো না। সভ্যতার আগমনে উৎকর্ষে উন্নয়নে হয়ে গেছি বাস্তববাদী,আধুনিক।স্বার্থই যেন শান্তির মূল। যেখানে কেউ কষ্ট পেলে সান্তনা দেয়ার মানুষ মিলে না। একের কষ্টে দশে কাঁদেনা। এই সব নাকি লোক দেখানো। আসলে একখনকার সম্পর্ক গুলোই লোক দেখানো।

যখন থেকে ঘরে শিক্ষিত বউ আসা শুরু,সংসার ভেঙ্গে চৌচির। ভাই ভাইয়ের কাছে,সন্তান পিতার কাছে চায়নি হিসাব।জায়গা জমি দলিল ছাড়াই ভোগ করেছে পিড়ির পর পিড়ি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। এই প্রজন্মেই কোপাকুপি ভাগা ভাগি। যদিও ইহা সময়ের ডাক,চাহিদা। তবে,  শিক্ষিত,মা,বউ আর বোনের কারনে  বাস্তবাববাদী,লোভী,যোগ্য ভাগের উত্তরাধিকারী,ন্যায়,নীতি,প্রতিবাদ,প্রতিরোধ,প্রতিশোধ পরায়ন নারীর কারনে যৌথ সংসার বিলুপ্তির পথে। আগেকার দাদীরা আফ্রিকান চেহারা নিয়ে ইউরোপীয়ান ছিলেন।হেরেমের সুন্দরী,আর কালো কোন বিষয় ছিলোনা।অভিভাবক  কথা দিয়েছে যারে, সেই এসেছে ঘরে। পুত্র,নাতি,ভাতিজা,ভাগিনা,চোখ বন্ধ করে ঢুকেছে বাসরে।পয়দা করেছে ডজনে ডজনে।আনন্দ আর আনন্দ,অভাবে দারিদ্রতায় ও আনন্দ। মামা,বাড়ি,চাচার বাড়িতে খালার বাড়িতে আনন্দ।অভাব বুঝতে পারেনি মেহমান।কি যে মেহমানের সন্মান। দুষ্ট চরিত্রের,অহংকারী,লোভী,প্রতিযোগী,ভাগ বন্টনের উত্তসুরীদের জন্য ভাগ হয়েছে জমি,সন্তান,আত্মীয় পরিজন।  
এটাও মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতার স্বাদ,অনন্য ভালোবাসার বিষাক্ত বিয়োজন।
নারীর সংস্পর্শে এসেই পুরুষ বাস্তবাদী,ভাগবাদী,স্বার্থান্বেষী। 

এই কালকেও দেখলাম মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে সদ্য চাকুরীপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার ভাইয়ের পাশে বসে ভাইয়ের কাজ দেখছে।ভাই অতি আদরে ভাইকে কাছে রেখে শিক্ষা দিচ্ছে।গল্প করছে,টেবিল টেনিস খেলছে।ফোনে ভাবী ভাতিজার সাথে কথা বলছে। এই ছেলের বউ ঘরে আসলে এই সংসারের এই আনন্দ কি আর থাকবে? 

আমরা যত শিক্ষিত হচ্ছি তত স্বার্থপর হচ্ছি।আর নিজের ভাগের দায়িত্ব নিচ্ছি। দোষটা কলি যুগের। চিত্রটা সবখানেই।অনুকরনীয় নেই কিছুই ভালো কিছুর।অনুকরণীয় সব নষ্ট কিছুর।নারীর দোষ দিয়ে কি লাভ। বিয়ের পর ধর্মের কথা মেনে পিতা মাতা আত্মীয় স্বজনের সকল দায় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে স্ত্রীর জন্য শুধু নিজেকেই বরাদ্দ দিচ্ছি। না নিজে আত্মীয় পরিজনের দায়িত্ব পালন করছি,না বউ ঝি বোন কে শাসনে রাখছি ও শাসন বললে আবার অপরাধী হবো,সাহিত্যিক,কবি,সাংবাদিক,নারী অধিকার পরিষদ,মানবাতাবাদিদের টার্গেট হবো।
নিজের মেয়েকে স্বাধীনচেতা মন বৃত্তির তৈরী করে পরের প্রজন্মের কাছে ভালোবাসা, সংসাদ পরিজন আশা করছি। বাবাতো পরপারে গিয়েছেন তার শাসনে,আদরে আবেগে আমাদের পালন ও করেছে। জীবনে শেষ কয়েকটা বছর কিছু কষ্ট বুকে নিয়ে গেছেন। আমার কি হবে? আমার পরবর্তী প্রজন্মের কি হবে। ভাই বোন সকল সন্তানদের আগে নিজের সন্তানের চেয়ে বেশী আদর যত্ম করতো এখন এই সন্তানদের দুষমনের সন্তান মনে করেই বড় করছি। চাচী আম্মা এখন শুধুই চাচী,মামী আম্মা শুধুই মামী,জেঠি মা শুধুই জেঠি,  ডাকেই হয়েছে কাট ছাট,আদরে হবে না কেন? 
পরিবার এখন দাদা দাদী চাচা চাচী জেঠা জেঠি আত্মীয় স্বজন নিয়ে নয় শুধু স্বামী স্ত্রী সন্তান নিয়ে।
আগামী প্রজন্ম শুধু পুরানো গল্প উপন্যাসেই জানবে যৌথ পরিবার বলে কিছু ছিলো। এ জন্য সবার আগে দায় শুধুই আমার।তাই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।অভিশাপ দিচ্ছিনা কাউকে।হ্যা,মনের অজান্তে যদি কোন অভিশাপ কারো উপর পড়ে, সে দায়িত্ব নির্দিষ্ট অপরাধীর।আমার কোন দায় নেই।
যত শিক্ষিত হচ্ছি তত স্বার্থপর হচ্ছি,নিজের হিসাবটা চাই কড়া গন্ডায়। কোন ছাড় দিতে পারবোনা।সে ছাড়েনিতো আমি কেন ছাড়বো?
আগের সিনেমায় দেখা যেতো হাবা গোবা বোকা ভাইকে ঠকিয়েছে জ্ঞানী চালাক ধূর্ত ভাই,আত্মীয়,ওয়ারিশদার। গল্প সিনেমার গল্প অনেকাংশে সত্য আর কাল্পনিক,প্রেডিকশন।  


এ জাতীয় আরো খবর