সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

পা র মি তা চ্যা টা র্জি

  • পরিহাস
  • ২০২৪-০৪-১১ ১৯:৫১:৪৭

বিয়ের বাড়ির ভিড় হৈ চৈ এর মধ্যে মাথাটা কেমন ঘুরে উঠলো স্বপ্নার।সহকর্মী অনিমার মেয়ে দেবজানীর বিয়েতে গিয়েছিল। দেবযানী  স্বপ্নার বিশেষ স্নেহের পাত্রী। শুনেছিল তার বিয়ে হচ্ছে এক প্রফেসরের সাথে ছেলেটি খুব স্কলার। ছেলের নাম অনিমেষ। বিয়ে বাড়ি পৌঁছতেই অনিমা এসে ধরে নিয়ে গেলো তাকে ্তার বেয়াইয়ের সাথে দেখা করানো জন্য। তার বেয়াই একজন নাম করা লোক। 
এই যে বেয়াই মশাই পরম বন্ধু স্বপ্না বন্দোপাধ্যায়। দেবযানী কে বলতে গেলে স্বপ্নাই মানুষ করেছে। 
আর ইনি হচ্ছেন ডঃ মলয় রায় চৌধুরী। স্বপ্নার চোখে যেনো কেমন ধোঁয়া লেগে গেলো। এ চোখের সামনে সে কাকে দেখছে?  ঐ যে ছ ফুট লম্বা ফর্সা কাঁচা পাকা চুল মাথা ভর্তি দাঁড়িয়ে আছে সে কে?  
কোনরকমে সে হাত দুটিকে একবার বুকের কাছে জড়ো করে টলতে টলতে বিয়ের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। অনিমাও অবাক হয়ে যায়  প্রিয় বন্ধুর আচরণ দেখে। 
স্বপ্না কোনরকমে টলতে টলতে নিজের বাড়িতে এসে সামনে যে বসার মতন একটা যায়গা ছিলা সেখানে সে নিজেকে সঁপে দিলো।
তারপর উল্টোতে লাগলো জীবন খাতার একটির পরে একটি স্মৃতির পাতা।
দার্জিলিঙে তারা থাকতো তারা বলতে তার বাবা মা আর সে। বাবা ছিলেন সরকারি অফিসার আর খুব মুক্ত মনের মানুষ। সমাজের ঘুনধরা পঙ্কিল সংস্কার থেকে একদম মুক্ত। 
মেয়েকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন দার্জিলিঙের কলেজে।  সেখানে প্রফেসর ছিলেন এম আর সি। অর্থাৎ প্রফেসর মলায় রায় চৌধুরী। দার্জিলিং কলেজে স্বপ্না বটানিক্সে অনার্স  নিয়ে ভর্তি হয়েছিল ডিপার্টমেন্টে হেড ছিলেন মলয় রায় চৌধুরী । প্রথম থেকেই  স্বপ্নার নিস্পাপ কালো টানাটানা চোখদুটো খুব গভীর ভাবে আকর্ষণ করেছিল। তার ওই গভীর সুন্দর চোখ দুটোর দিকে চেয়ে তিনি দিয়ে যেতে দীর্ঘ বক্তৃতা। তারপর নিজেই উপযাচক হয়ে স্বপ্নার পড়াশোনার নানা বিষয়ে নিজে থেকেই সাহায্য করতে লাগলেন। এইভাবে আসতে আসতে তাদের সম্পর্ক ভালোলাগা থেকে প্রেম প্রেম থেকে ভালোবাসায় পৌঁছে গেলো। একসময় মলয়দের বাড়ি থেকেই বিয়ের সম্বন্ধ এলো।স্বপ্নার বাবা মা এই  প্রস্তাবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন।  
মলয় তো খুব সাধারণ ঘরের ছেলে নয়। বাবা হচ্ছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নাম করা প্রফেসর সুধাংশু রায় চৌধুরী। বিদগ্ধ বক্তা হিসেবে পণ্ডিত মহলে খ্যাতি আছেন। তাছাড়া নারী স্বাধীনতা এবং নারী প্রগতির জন্য অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। এমন একজন ব্যাক্তির পুত্রবধূ  হওয়া নেহাতই  ভাগ্যের ব্যাপার। 
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন এসে গেলো। স্বপ্নার বাবা মা নিজেদের সাধ্যমত যথাসাধ্য দিয়ে সাজিয়ে দিলেন। 
মালদা থেকে স্বপ্নার জ্যাঠামশাইরা এসে গেছেন। নদীয়া থেকে স্বপ্নার কাকারা ও এসে গেছেন  মুর্সিদাবাদ বহরমপুর থেকে প্রায় পাঁচ নৌকো ছানাবড়া নিয়ে মামারা হাজির। 
স্বপ্নার কাকা খুব স্পষ্টবক্তা তিনি নিজেও একটি কলেজের প্রফেসর। তিনি বললেন, মেজদা তোরা এমন করছিস যেনো এমন একটা ছেলে পেয়ে আমাদের মেয়ে ধন্য হয়ে গেছে, আমাদের  মেয়ে কি সে কম রে বটানিতে এম এস সি ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট। বিয়ের কেনাকাটা প্রায় সবই সারা।
ঘরের ভিতর খুব হৈ চৈ স্বপ্না একটু একা থাকার  জন্য বারন্দায় এসে দাঁড়ালো। একটু দূর থেকে দেখলো মলয় আসছে। স্বপ্না একটু লজ্জা পেলো আর সাতদিন পর বিয়ে আর আজ আবার আসার কি দরকার!কিন্তু কাছে আসার পর স্বপ্না দেখলো মলয়ের মুখটা অস্বাভাবিক গম্ভীর। সদা হাস্যমুখর মুখটা এতো গম্ভীর দেখে সবাই একটু সন্দিগ্ধ হয়ে গেলো। মলয়কে সবাই  বসতে বললো কিন্তু মলয় বসলো। শুধু পকেট থেকে একটা চিঠি বার করে স্বপ্নার বাবার হাতে দিয়ে বললো বাবা এই চিঠিটা পাঠিয়েছেন। স্বপ্নার বাবার তো হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে, কাকা হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে পড়ে বললো একি চোদ্দ হাজার টাকা নগদ তাও একেবারে শেষমুহুর্তে! তখনকার দিনে চোদ্দ হাজার টাকাটা কিন্তু অনেকটা টাকা। কোন মধ্যবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে একেবারে শেষ মুহূর্তে বার করাটা  সাধ্যের মধ্যে থাকত না।   এটা কি ইয়ার্কি হচ্ছে!  এই না কি নারী দরদী মানুষব।কিরকম ভাবে  নারী প্রগতি করেন ঠিক   বুঝলাম না!  
মলয় বললো আপনারা কিন্তু আমার বাবাকে অপমান করছেন। 
এতোক্ষণে স্বপ্না বললো অপমানের যোগ্য যে তাকে তো অপমানিত হতেই হবে বলেই বলে উঠলো, কাকাই এ বিয়ে হবেনা। আমি কি বাজারের আলু পটল যে আমাকে টাকা দিয়ে কেনা হবে। যাদের মনটাই শিক্ষিত হয়নি তারা আবার কিসের শিক্ষিত! :
স্বপ্নার কাকাই বলে উঠলো সাবাস মামনি সাবাস এই না হলে আমার ভাইঝি। 
কাকাই এটুকু বুঝতে পারছে যে সত্যি ভালোবেসেছিল তার ব্যাথাটা কতখানি।কিন্তু তবু মাথা উচু করে বিয়েটা ভেঙে দিয়েছে। কাকাই ওকে ধরতেই ও কাকাইয়ের বুকের ওপর পরে কান্নায় ভেঙে পড়লো। মুখে বললো আমার বিয়ে ভাঙার কোনো কষ্ট নেই  কিন্তু ভিষণ অপমান লাগছে কাকাই। 
কাকাই নীরবে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।

 


এ জাতীয় আরো খবর