সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

অধ্যক্ষকে অপসারণপুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে মহাপরিচালককে লিখিত আবেদন

  • শেখ বদর উদ্দিন
  • ২০২৩-১২-১০ ২১:৪৯:৩৫

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি ঃ খুলনার আড়ংঘাটা থানাধিন তেলিগাতী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম কে অপসারন এবং তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগের তদন্তপুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দাবীতে পালিত হলো অনির্দিষ্টকালের জন্য শান্তিপুর্ন অবস্থান কর্মসুচি। ১০ ডিসেম্বর রবিবার সকাল ৮টা থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দাবী সম্বলিত ব্যাপার নিয়ে দাড়িয়ে এ কর্মসুচি পালন করেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক—কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রশিক্ষনার্থীরা। দ্বিতীয় দিন কর্মসুচি পালনকালে আন্দোলনকারীরা প্রতিষ্ঠানের ৪৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর গণ স্বাক্ষরকৃত একটি লিখিত অভিযোগ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের নিকট প্রেরণ করেছেন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র চারজন শিক্ষকের একটি প্রতিনিধি দল খূলনা পুলিশ কমিশনারের সাথে দেখা করে দাবী সম্বলিত তাদের লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। এ দিকে  আন্দোলনমুখে গত দুই দিন যাবত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে ঢুকতে পারিনি। শিক্ষক ও কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রতি সমার্থন জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণার্থীরকেও গতকাল অবস্থান কর্মসুচিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাতচল্লিশ জন শিক্ষক—কর্মকর্তা ও কর্মচারীর গণ স্বাক্ষরিত মহাপরিচালকের বরাবর প্রেরিত লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম—দূনীতি—স্বেচ্ছাচারিতা, সরকারি সম্পদ নষ্ট, অধিনস্তদের শারিরিক ও মানুষিকভাবে লঞ্চিত করা, প্রশিক্ষণার্থীদের গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা, প্রশিক্ষণের কাঁচামাল আত্মসাৎ, দীর্ঘদিন প্রশিক্ষকদের সম্মানী প্রদান না করা, অধিনস্তদের বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজসহ হুমকি—ধামকি প্রদান, নারী কেলেঙ্কারীসহ গুরুতর সব অপরাধ করে আসছে। লিখিত অভিযোগ তারা জানায় দীর্ঘ ২৩ মাস যাবৎ পি ডি ও সম্মানী প্রদান না করে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেছেন। প্রশিক্ষনের গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, বরগুনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলাতে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে তেল খরচ করে, এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের কাঁচামালের অর্থ আত্মসাৎ করায় প্রশিক্ষণার্থীদের কাংখিত প্রশিক্ষণের ব্যহত হয়েছে। অধ্যক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের একজন নারী গেষ্ট টেইনারের সাথে অনৈতিক সম্পের্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে লিখিত অভিযোগে। বিদেশে সব থেকে চাহিদা সম্পন্ন ট্রেড ওয়েল্ডিং শপটি অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। লিখিত অভিযোগে তারা জানান, অধ্যক্ষ তার সকল অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সার্বক্ষনিক সন্ত্রাসীমুলক আচার—আচারন, গালিগালাজ ও মারধরের মাতো ঘটনাসহ অধিনস্তদেরকে শারিরিক ও মানুষিকভাবে লাঞ্চিত করে আসছে। অধ্যক্ষের রিবুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও যাবতিয় রাষ্ট্রিয় ও সামাজিক কর্মকান্ড সুষ্টভাবে পালন না করার গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের ভিষন ও মিশন বাস্তবায়নের পথে এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম অন্তরায় হয়ে দাড়ানোর জন্য অবিলম্বে তাকে অপসারণ সহ তার বিরুদ্ধে উঠে আসে সকল অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে গত ৭/১২/২০২৩ তারিখ থেকে প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অনিদিষ্টকালের শান্তিপুর্ণ অবস্থান কর্মসুচি পালন করে আসছে।  
এদিকে ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮ টা থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে দাবী সম্বলিত প্যানা ঝুলিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাদের দ্বিতীয় দিনের কর্মসুচি পালন করেছেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ইন্সেটেক্টর সৈয়দ কামাল আহমেদ, মাসুদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, মারুফ আহমেদ, হযরত্ আলীসহ সিনিয়র শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বক্তৃতা করেন। সকাল ১১টায় প্রতিষ্টানের চার সদস্যের একটি শিক্ষক প্রতিনিধি দল খুলনা পুলিশ কমিশনারের দপ্তরে বিষয়টি অবহিত করে দাবী সম্বলিত লিখিত অবিযোগ পেশ করেন। 
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামের মুঠোফোনে(০১৭১১৭৮০১১৪) জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জরুরী কাজে ডিসি অফিসে আছি। আমি অফিসে এসে কথা বলবো। তার সাথে কথা বলতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত বসে থেকেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তিতে তাকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেনি।

 


এ জাতীয় আরো খবর