বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬

ম নি র জা মা ন

  • স্বর্ণালী সকাল
  • ২০২৩-১২-০২ ১০:০৬:০৯

পার্কের  কুকুরগুলো রাতভর ছুটোছুটি করে ভোরের দিকে ক্লান্ত হয়ে আমাদের মতো এখানে-সেখানে ঘুমে ডুবে যায়। তখন ঘুম  ভাঙ্গে পাখ-পাখালিদের। ওরা ঘাসের উপর নেমে এসে টুপটাপ পোকা খেয়ে উড়ে উড়ে কীযে আনন্দে মাতে, ভাবা যায় না। ফুলগুলো হেসে ওঠে প্রজাপ্রতি পেয়ে। শিশিরের ছোঁয়ায় ঘাসেরা স্নান সেরে নেয়। 
এমন ভোরবেলায় ইদানিং একটা মেয়ে এসে আমার ঘুম ভাঙায়। আমি চোখ মেলে বলি—আরে, তুমি! আজও এই সকাল বেলায়?
সকালটা কি শুধু তোমার! মেয়েটা হাসে।
তা কেনো! ভোরের আলো সবাইকে ছুঁয়ে যেতে চায়।
তবে চলো; ফুল কুঁড়াবো।
তুমি একা যাও।
না, তোমাকে সঙ্গে নেবো। আমরা মৃদু-পায়ে হাত ধরাধরি করে হাটবো। শিশিরে আমাদের পা ভিজে যাবে…।
তোমার সঙ্গে কেনো পা মেলাতে হবে!
ফুলের বনে কীট থাকে; যদি হুল ফুটায়!
না, না, তা হতে পারে না। এই পার্কে কেউ তোমাকে ছুঁতে পারবে না।
শুধু তুমি ছাড়া। মেয়েটা হাসতে থাকে। --ওই, ওই দেখো, কয়েকটা কাঠ-বিড়ালি। মেয়েটা পা টিপে টিপে কাঠ-বিড়ালিগুলোর কাছাকাছি যায়। আমি ওর পিছে গিয়ে দাঁড়াই। মেয়েটা বলে—তুমি কি কাঠ-বিড়ালি! পার্কে থাকো?
মানুষও যেকোনো প্রানীর মতো; সবাই সবার কাছাকাছি থাকতো। যেমন, আমি আর এই হিজল গাছের কাঠ-বিড়ালিগুলো; আর কিছু পাখি, ঐ যে কিচিরমিচির করতেছে…।
মেয়েটা হেসে ওঠে, আর কাঠ-বিড়ালিগুলো লেজ নাচিয়ে গাছে উঠে যায়। কিছু পাখি উড়ে যায়। মেয়েটা হতাশ হয়ে বেঞ্চে এসে বসে ব্যাগ থেকে জুসের প্যাকেট বের করে।
নেও এটা খাও।
এসব না; চলো, আমরা কাঁচা ডুমুর খাই; হরিতকি গাছ আছে বনে।
তুমি কি সার্বাইবার হয়ে যেতে চাও!
হ্যা, তাই; সংগ্রামইতো জীবন। যার সংগ্রাম নাই, তার বেঁচে থাকার মানে কি!
আমরা হাটতে হাটতে হরিতকি বনে আসি। পাখিদের কলরব মেয়েটাকে আনন্দিত করে তোলে। সবুজ হরিতিকি ফল আঁচলে মুছে নিয়ে চিবোতা থাকে। আমি বলি—কেমন?
কষ কষ; খুব মজা। এই বনে বাসক পাতা আছে?
বাসক পাতা দিয়ে কি হবে?
আমার হৃদয়টা কেটে গেছে; একটু রস লাগাবো।
কে বিক্ষত করলো তোমার হৃদয়?
এই সমাজ। লোভ আর লাভের হিসেব-নিকেশ।
আমি অবাক হয়ে মনে মনে জানতে চাই--কে তুমি? কোত্থেকে আসো? কেন আসো? বাস্তবে জানা হয় না। উদ্যান সবার। যেকেউ যখন-তখন আসতে পারে। জানতে চাওয়া অভদ্রতা। আমি বলি—চলো এবার; কোথাও বসে এবার একটু বিশ্রাম নেবে।
মেয়েটা হাসে। আমাকে নিয়ে গিয়ে বেঞ্চে বসে ফ্রুট-জুস খায়। তারপর উদাসী হয়ে গান শোনায়। 
ওর একটাই গান--যদি জানতেম, আমার কিসের ব্যাথা, তোমায় জানাতাম…। 
গান শেষ হলে নিরবতা আসে। আমি বলি—দুঃখ একট রোগ। ওকে পুষতে নাই।
তুমি বোঝো! বুঝতে পারো? 
মেয়েটা খিলখিল করে হেসে ওঠে। ভোরের পাখিরাও কলরব জুড়ে দেয়। ভোরবেলাটা সকাল হয়ে যায়।

 


এ জাতীয় আরো খবর