মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

ছয় বছরে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ: কপিরাইট আন্দোলন থেকে গীতিকবিদের কল্যাণ

  • রেজাউর রহমান রিজভী
  • ২০২৬-১০-২৭ ১৭:১৯:১৫

বাংলা গানের মৌলিক স্রষ্টা গীতিকবিদের অধিকার, মর্যাদা, স্বীকৃতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠার পর ছয় বছরে সংগঠনটি কপিরাইট আইন সংশোধনের দাবি তুলেছে, রয়্যালটি আদায়ে উদ্যোগ নিয়েছে, গীতিকবিদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ করেছে। পাশাপাশি সম্মাননা, চিকিৎসা সহায়তা ও সাংগঠনিক সম্প্রসারণেও কাজ করেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সংঘের বিভিন্ন উদ্যোগ, অর্জন ও কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক গীতিকবি সিরাজুম মুনির।
সংগঠনটির সঙ্গে চার বছরের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লিখেছেন, ছয় বছরের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে লিখতে গেলে ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’র মতো আরেকটি গ্রন্থই প্রকাশ করা সম্ভব।
গীতিকবিদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম:
২০২০ সালের ৩ জুলাই বিভিন্ন প্রজন্মের গীতিকবিদের অংশগ্রহণে প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংঘ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই বছরের ২৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।
অর্ধশতাধিক গীতিকবির মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হয় সংগঠনের নাম, গঠনতন্ত্র ও সমন্বয় কমিটি। প্রবীণ গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও মনিরুজ্জামান মনিরসহ বরেণ্য গীতিকবিদের সমর্থন ও অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে এর সাংগঠনিক ভিত্তি। পরে নিয়মিত কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন, নির্বাচন, সাধারণ সভা ও সদস্যপদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।
কপিরাইট আইন সংশোধনে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ
প্রতিষ্ঠার প্রথম মাস থেকেই গীতিকবিদের কপিরাইট ও সৃষ্টিকর্মের অধিকার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু করে সংঘ।
২০২০ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের তৎকালীন রেজিস্ট্রার ও যুগ্ম সচিব জাফর রাজা চৌধুরীর সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এতে অংশ নেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও মনিরুজ্জামান মনিরসহ আরও অনেকে। বৈঠকে প্রস্তাবিত কপিরাইট আইনে গীতিকবিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, গানের মৌলিক স্রষ্টাদের অধিকার এবং বিদ্যমান আইনগত জটিলতা নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। একই মাসে আইন সংশোধনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে কপিরাইট আইন সংশোধন নিয়ে অংশীজনদের আলোচনায় গীতিকার ও সুরকারকে যৌথভাবে গানের প্রণেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। কিন্তু পরে সংশোধিত আইনের খসড়ায় গীতিকারদের স্বীকৃতি বাদ পড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সভাপতি সিমিন হোসেন রিমির কাছে বিষয়টি তুলে ধরার উদ্যোগ নেয় সংঘ। সংগঠনটির মতে, গীতিকবিদের সৃষ্টিকর্মের মালিকানা, কপিরাইট ও ন্যায্য রয়্যালটির অধিকার রক্ষায় এসব উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রয়্যালটি অভিযোগে সরাসরি হস্তক্ষেপ
গীতিকবিদের আর্থিক অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন সময় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে সংগঠনটি। চলতি ২০২৬ সালের অক্টোবরে একজন গীতিকবি রয়্যালটির হিসাব নিয়ে অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন সংঘের নেতারা। আলোচনার ভিত্তিতে হিসাব পুনরায় প্রদান ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত রয়্যালটি অভিযোগে সংগঠনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ গীতিকবিদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
সবার জন্য উন্মুক্ত কপিরাইট কর্মশালা
আইনগত অধিকার সম্পর্কে গীতিকবিদের সচেতন করতে ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের সহযোগিতায় কপিরাইট কর্মশালার আয়োজন করে সংঘ। কর্মশালায় কপিরাইট নিবন্ধন, সৃষ্টিকর্মের স্বত্ব সংরক্ষণ, গীতিকবিদের আইনগত অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনটি শুধু সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব গীতিকবির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
প্রয়াত গীতিকবিদের স্মরণ
কিংবদন্তি গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যৌথভাবে স্মরণসভার আয়োজন করে সংঘ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত গীতিকবির পরিবারের সদস্য, বরেণ্য গীতিকবি, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি তাঁর কালজয়ী গান সংরক্ষণ এবং তাঁর নামে স্থাপনা বা সড়কের নামকরণের দাবি তোলা হয়।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি প্রয়াত কবি ও গীতিকবি জাহিদুল হকের স্মরণে বিশেষ সভার আয়োজন করে সংগঠনটি। প্রয়াত গীতিকবি কে জি মোস্তফা, কাওসার আহমেদ চৌধুরী, ওমর ফারুক বিশাল ও বর্ণ চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন প্রজন্মের স্রষ্টাদের অবদান স্মরণ ও তাঁদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সংঘের বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে।
জীবিত কিংবদন্তিদের সম্মাননা,‘গীতিকবি আড্ডা’
প্রবীণ গীতিকবিদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের সৃষ্টিশীল জীবন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সংঘ। ২০২০ সালের শেষ দিকে সংগঠনের নেতারা আজীবন সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে ছবিসংবলিত বিশেষ শুভেচ্ছাপত্র পৌঁছে দেন।
২০২৫ সালের ১০ মে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ‘গীতিকবি আড্ডা’র প্রথম পর্ব। এতে বাংলা আধুনিক গানের তিন বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, লিটন অধিকারী রিন্টু ও গোলাম মোর্শেদকে সম্মাননা জানানো হয়। ২০২৬ সালের ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বে অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী ও তরুণ মুন্সী। এসব আয়োজনে উঠে আসে গীতিকবিদের গান লেখার অভিজ্ঞতা, সৃষ্টিশীল জীবন, শিল্পদর্শন ও বাংলা সংগীতে তাঁদের অবদান।
১২৯ গীতিকবির সৃষ্টিকর্মে ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’
সংঘের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’। গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ ও অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সের যৌথ এই সংকলন ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থটিতে প্রবীণ থেকে নবীন ১২৯ জন গীতিকবির সংক্ষিপ্ত জীবনী, আলোকচিত্র, প্রত্যেকের নির্বাচিত ১০টি গানের তালিকা এবং একটি করে পূর্ণাঙ্গ গীতিকবিতা স্থান পেয়েছে। ফলে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি নির্বাচিত গানের তথ্য এবং ১২৯টি পূর্ণাঙ্গ গীতিকবিতা একত্রে সংরক্ষিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, লেখা সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সম্পাদনা ও প্রকাশকের সঙ্গে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে কাজটি সম্পন্ন হয়। বাংলা গানের স্রষ্টাদের পরিচিতি ও সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে গ্রন্থটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অসুস্থ ও অসচ্ছল গীতিকবিদের পাশে
সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অসুস্থ ও আর্থিক সংকটে থাকা গীতিকবিদের পাশে দাঁড়িয়েছে সংঘ। কার্যক্রমের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মোট ৫৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী আর্থিক সংকটে থাকা একজন গীতিকবির চিকিৎসায় সদস্যদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করা হয়; অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত সংগৃহীত ২২ হাজার টাকা তাঁর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
নথিভুক্ত এই দুই উদ্যোগে মোট ৭৫ হাজার টাকা সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। এর বাইরেও বিভিন্ন সময় অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত গীতিকবিদের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সহায়তাপ্রাপ্তদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষায় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সদস্য ও পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে কর্পোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষর করে সংঘ। এর আওতায় সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এক্সিকিউটিভ হেলথ চেকআপ, কার্ডিয়াক চেকআপ এবং হাসপাতালের নির্ধারিত চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরে সদস্যদের তথ্য যাচাই ও পরিচয়পত্র প্রস্তুতের কাজ পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ সংঘের সদস্যকল্যাণ কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গীতিকবি ও সুরকারদের পৃথক পুরস্কারের দাবি
গানে গীতিকবি ও সুরকারদের স্বতন্ত্র অবদানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে পৃথক ক্যাটাগরি চালুর দাবি তুলেছে সংঘ। ২০২৪ সালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়। সংগঠনটির যুক্তি, একটি গানের জনপ্রিয়তার পেছনে কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি গীতিকবি ও সুরকারেরও মৌলিক অবদান থাকে; তাই পুরস্কার ও সম্মাননাতেও তাঁদের পৃথক স্বীকৃতি প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পরিচিতি
২০২৫ সালের ২১ মার্চ বার্ষিক সাধারণ সভায় সংঘের নিজস্ব ওয়েবসাইট (https://lyricistsassociationbd.com/) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এতে সদস্যদের প্রোফাইল, সংগঠনের পরিচিতি ও বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে গীতিকবিদের পরিচিতি ও সাংগঠনিক তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন, সদস্যপদ ও সাংগঠনিক জবাবদিহি
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচনে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে সংঘ। ২০২১-২০২২ মেয়াদের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের পর ২০২২ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি গঠিত হয়। ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পরবর্তী মেয়াদের ১৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনী ফল ঘোষণা, শপথ ও দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
২০২৩ সালে ১১ জন নতুন গীতিকবিকে সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়; এরপরও নতুন ও তরুণ গীতিকবিদের অন্তর্ভুক্তি অব্যাহত থাকে। ২০২৫ সালের ২১ মার্চের বার্ষিক সাধারণ সভায় সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক প্রতিবেদন এবং অর্থ সম্পাদক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন; সেখানে নতুন সদস্যদের পরিচয়ও করিয়ে দেওয়া হয়।
সাধারণ সভা, ইফতার, সম্মাননা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও গীতিকবি আড্ডার মাধ্যমে প্রবীণ ও নবীন গীতিকবিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক দৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অর্জনের পাশে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
ছয় বছরে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও গীতিকবিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ন্যায্য রয়্যালটি নিশ্চিত করা, কপিরাইট আইনের কার্যকর প্রয়োগ, মৌলিক স্রষ্টাদের যথাযথ সম্মানী এবং পেশাগত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আরও কাজ প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সংগঠনের কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে সিরাজুম মুনিরের বক্তব্যে।
তিনি বলেন, “কাজ বাকি থাকা আর কোনো কাজই হয়নি, এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”
সংগঠনের সমালোচনার অধিকার সবার আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমালোচনা হওয়া উচিত তথ্য, ইতিহাস ও বাস্তব অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে। তাঁর ভাষায়, “একটি স্বেচ্ছাসেবী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাফল্য শুধু কতটি অনুষ্ঠান করেছে তা দিয়ে বিচার করা যায় না। কখনো একটি আইনি দাবি, কখনো একজন অসুস্থ সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানো, কখনো একজন প্রবীণ স্রষ্টাকে সম্মান জানানো, আবার কখনো শতাধিক গীতিকবির সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।”
প্রতিষ্ঠা থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের কর্মকাণ্ডে উঠে এসেছে অধিকার আদায়ের আন্দোলন, সাংগঠনিক ঐক্য, সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, সামাজিক কল্যাণ ও পেশাগত স্বীকৃতির বহুমুখী প্রয়াস। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে গীতিকবিদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
 

 


এ জাতীয় আরো খবর