শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-১০-২১ ১২:০৭:৫৯

দেশে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা পরিচালনায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন এ বিধান কার্যকর করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
গত ১৬ জুলাই নিরাপদ খাদ্য (নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নতুন প্রবিধান অনুযায়ী, ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন এবং চার শ্রেণির নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসার জন্য লাইসেন্স গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। এর আওতায় পড়বে রাস্তার পাশের খাবারের দোকান,ছোট রেস্তোরাঁ,বেকারি,মিষ্টির দোকান,ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান,খাদ্য উৎপাদনকারী,আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান।
নিবন্ধনের আওতাভুক্ত ব্যবসার মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ,ফলের রসের দোকান,পেস্ট্রি ও মিষ্টির দোকান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি,পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রির ব্যবসাও এ বিধানের অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া পাইকারি খাদ্যপণ্যের ব্যবসা,খাদ্য সংরক্ষণাগার,হিমাগার,ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদন এবং কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন,প্রক্রিয়াজাতকরণ,মজুদ,আমদানি,রপ্তানি ও বিপণনের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রেণি অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।
বিশেষায়িত খাদ্যের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য,বিশেষ পথ্য,চিকিৎসার প্রয়োজনে তৈরি খাদ্য,প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং পুষ্টিবর্ধক বিশেষ পণ্য। শিশুদের কৃত্রিম দুধের মিশ্রণ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্যও সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় আসবে।
এ ছাড়া জিনগতভাবে পরিবর্তিত খাদ্য,জৈব খাদ্য,বিকিরণপ্রক্রিয়ায় প্রস্তুত খাদ্য,অভিনব খাদ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে। স্বাস্থ্যগত উপকার বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি রয়েছে, এমন খাদ্যপণ্যের জন্যও বিধান অনুসরণ করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করতে নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ এবং লাইসেন্সের জন্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী ফি পরিশোধ ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রবিধান অনুযায়ী,প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা হবে। অন্যদিকে, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তন ও শ্রেণিভেদে নির্ধারিত হবে। প্রিমিসেস লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ফি ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা।
নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি খাদ্যপণ্যের মোড়কে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে ভোক্তাদের পণ্যের নিবন্ধন শনাক্ত করা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবহার করা সহজ হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন করা যাবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক আবেদনব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্ধারিত ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই ১ নভেম্বরের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন বিধান কার্যকর হলে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে, উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার হবে।

নিরাপদ খাদ্য, নিবন্ধন, লাইসেন্স


এ জাতীয় আরো খবর