বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

ল তি ফা জা হা ন

  • কাবেরী নদী জলে
  • ২০২৬-০৯-০৮ ২০:১৩:০৪

কাবেরী নদী জলে কে গো বালিকা
আনমনে ভাসাও চম্পা শেফালিকা 
প্রভাত সিনানে আসি আলসে 
কঙ্কনো তাল হানো কলসে 
খেলে সমীরণ লয়ে কবরীর  
মালিকা 
দিগন্তে অনুরাগে প্রভাত জাগে, 
তব জল ধলো ধলো করুণা মাগে। 
ঝিলাম রেবা নদী তীরে, 
মেঘদূত বুঝি খুঁজে ফিরে। 
তোমারেই তন্বী শ্যামা কর্ণাটিকা।। 
এখানে কবি নজরুলের নায়িকা কাবেরী নদীর পানিতে নেমে অন্যমনে চম্পা ও শেফালী ফুল ভাসিয়ে দিচ্ছে। সেই বালিকাটি সকালবেলা স্নান করতে কাবেরী নদীর তীরে এসেছে। আলস্যভরে 
হাতের কাঁকন দিয়ে কলসীতে আলতো করে গানের তাল ঠুকে দিচ্ছিল। 
ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস সেই বালিকার চুলের বেণী দুলিয়ে গাঁথা মালা নিয়ে খেলা করছে। 
ভালোবাসার টানে সকালে রক্তিমাভায় ভোর হয়। কাবেরীর স্বচ্ছ টলটলে জলে নেমেছে বালিকা। সেই জলই মনে হলো তার কাছে করুণা ভিক্ষা করছে। নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের কবি হয়েও তিনি ঝিলাম, কাবেরী, রেবা নদীতীরে তাঁর স্বপ্নের নায়িকাকে নিয়ে গেলেন স্নান করাতে, কাঁখে কলসী। 
সারা ভারতবর্ষকে একটি মালায় গেঁথে ফেলেছেন নজরুল ইসলাম। বিরহী মেঘদূত যেন তার প্রেয়সীকে এই ঝিলাম ও রেবা, কাবেরী নদীতীরে খুঁজে ফিরছে। সে আর কেউ নয়, এই শ্যামলা তন্বী 
ছিপছিপে গড়ন কর্ণাটকের মেয়েটি। নজরুল এখানে নিজেকে মেঘদূত রূপে ধরা দিয়েছেন।
 

 


এ জাতীয় আরো খবর