রাজধানীতে অনুষ্ঠিত নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বরেণ্য অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সড়কযোদ্ধা, বিশিষ্ট অতিথি এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীদের উপস্থিতিতে সম্মাননা প্রদান পর্বটি পরিণত হয় অনুপ্রেরণার এক আবেগঘন মুহূর্তে।
সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় এস এম আজাদ হোসেন বলেন, ‘এই পদক কেবল আমার ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়; এটি নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করা প্রতিটি মানুষের সম্মান। একটি প্রাণও যেন অবহেলা, অসচেতনতা কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে সড়কে ঝরে না পড়ে-এই স্বপ্ন নিয়েই আমরা পথ চলছি। মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে সমাজের প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একটি নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; চালক, পথচারী, যাত্রী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সচেতন নাগরিক-সবার সম্মিলিত দায়িত্ববোধই পারে দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।’
দীর্ঘদিন ধরে এস এম আজাদ হোসেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার নানা উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর এই সম্মাননা সেই দীর্ঘ পথচলার একটি গৌরবময় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ‘জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি পদক’ শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ, মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতীক। এমন স্বীকৃতি সমাজে ইতিবাচক উদ্যোগকে আরও গতিশীল করবে এবং নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে।
অনুভূতি প্রকাশের শেষাংশে এস এম আজাদ হোসেন বলেন, ‘যে সম্মান মানুষকে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে নিরাপদ সড়ক হবে প্রতিটি মানুষের নিশ্চিত অধিকার এবং মানবিকতা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।’