শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬

ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে কূটনৈতিক অসন্তোষ,দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-০৬ ০৯:৩২:২১

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বক্তব্য বাংলাদেশ রাষ্ট্র, জনগণ এবং জাতীয় মর্যাদার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ছিল।
বুধবার প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,অনুষ্ঠানটি আয়োজনের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারত সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের চলমান প্রচেষ্টায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে-এমন উদ্বেগ জানানো হলেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশ দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি অবমাননাকর। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বীকৃত তথ্যকে অস্বীকারের চেষ্টা ইতিহাস বিকৃতির একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অঙ্গীকার করেছে। এ কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এর পরিবর্তে তাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং এটি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সরকার মনে করে।

শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক


এ জাতীয় আরো খবর