বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মহেশখালীতে জনসমুদ্র,বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের মিছিল

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৮-০৫ ১৯:৫৩:৫৩

মহেশখালী (কক্সবাজার)
 ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মহেশখালী উপজেলা সদরে বর্ণাঢ্য বিজয়ী মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এমপি।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরে জড়ো হন। জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নেতাকর্মীদের পদচারণায় পুরো উপজেলা সদর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
পরে এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের নেতৃত্বে বিশাল বিজয়ী মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শহীদদের স্মরণে নানা স্লোগান এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় উচ্চারিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হবে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এমপি বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদরা দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। তবে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সুশাসন, ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা তাঁদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণতন্ত্রের মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা কেবল একটি দিনের স্মরণ নয়; এটি জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চলমান অঙ্গীকার। শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
মিছিল ও সমাবেশকে ঘিরে উপজেলা সদরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচি প্রত্যক্ষ করেন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মহেশখালীতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ উপস্থিতির পাশাপাশি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

 


এ জাতীয় আরো খবর